পোল্যান্ডে মার্কিন ট্যাংকবহর, মস্কোয় বিমানবিধ্বংসী রুশ মিসাইল (ভিডিও)

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো কর্তৃক পোল্যান্ডে মার্কিন ট্যাংক ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পোল্যান্ডে মার্কিন ট্যাংক ও কয়েক সেনা উপস্থিতির ঘটনার প্রেক্ষিতে রাশিয়াও মস্কোর কাছে বিমানবিধ্বংসী মিসাইল ও বিমানবাহিনীর সেনা মোতায়েন করেছে। এর ফলে নির্বাচনে হ্যাকিং নিয়ে রুশ-মার্কিন সম্পর্কে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

১২ জানুয়ারি ২০১৭ বৃহস্পতিবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ট্যাংক ও সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে পোল্যান্ডে পৌঁছায় একদল মার্কিন সেনা। এরপর কয়েক ধাপে মোট তিন হাজার মার্কিন সেনা পোল্যান্ডে পৌঁছায়। ইউরোপে কয়েক দশকের মধ্যে এটাই যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক উপস্থিতি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে মস্কো। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, পোল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রাশিয়ার স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

পোল্যান্ডের নিরাপত্তা তথা ইউরোপে রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে ওবামা প্রশাসন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নাকচ করে দিয়ে দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘ইউরোপে আমাদের সীমান্তে তৃতীয় কোনও দেশ তাদের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলছে। এমনকি এটা কোনও ইউরোপীয় দেশও নয়।’

পোল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সামরিক উপস্থিতিকে ইউরোপের নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করে তোলার একটি উপাদান হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালেক্সেই মেসকভ।

২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব ইউরোপে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ন্যাটো। তারই অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে কয়েকশ মার্কিন সেনা ও ট্যাংক জার্মানিতে পৌঁছায়। এসব সেনা ও ট্যাংক পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সীমান্তে মোতায়েন করা হবে।

ন্যাটোর এ পদক্ষেপ রাশিয়ার প্রতি কোনও বার্তা কি-না? এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল টিমোথি ম্যাকগুইর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শান্তি বজায় রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রস্তুতি নেওয়া। এটা শুধু শক্তি প্রদর্শন এবং এ অঞ্চল ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পালন।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ন্যাটো সদস্য জার্মানি, কানাডা ও ব্রিটেন আরও প্রায় এক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে। এসব সেনাদেরও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়াতে মোতায়েন করা হবে।

এদিকে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মস্কোর প্রতিরক্ষায় বিমানবিধ্বংসী অত্যাধুনিক এস-৪০০ মিসাইল মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এসব মিসাইল মস্কোর আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিরিয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এস-৪০০ গ্রাউলার মিসাইল ব্যবস্থা রাজধানী মস্কোকে ঘিরে আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর একটি রেজিমেন্টকেও মস্কোতে মোতায়েন করার কথা নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মস্কোর কাছে শিগগিরই এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবস্থাসহ যে কোনও সময় যুদ্ধ করতে প্রস্তুত বিমানবাহিনীর অপর একটি রেজিমেন্টকেও মোতায়েন করা হবে।

এস-৪০০ মিসাইল ব্যবস্থা রাশিয়ায় ট্রায়াম্ফ নামে পরিচিত হলেও ন্যাটো এটাকে গ্রাউলার নামেই অভিহিত করে। এটা রাশিয়ার সর্বাধুনিক ভূমি থেকে আকাশে ছোঁড়ার মিসাইল ব্যবস্থা। এটি ২৫০ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

এসব মিসাইল মোতায়েন রুশ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মস্কোর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি বিবৃতিতে, কোনও নির্দিষ্ট শত্রুর কথা উল্লেখ করা হয়নি। যদিও ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব ইউরোপের ন্যাটো ট্যাংক ও সেনা মোতায়েনের পর সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষিতেই এ মিসাইল মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের নভেম্বরে পোল্যান্ড সীমান্তবর্তী ছিটমহল কালিনিনগ্রাদেও এই মিসাইল ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল রাশিয়া। সূত্র: বিবিসি, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

Share.

Leave A Reply