ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিপাকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: 

যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এই আমন্ত্রণ বাতিলের দাবিতে শহরে শহরে বিক্ষোভ শুরু করেছেন প্রতিবাদীরা। আর সফর বাতিলের দাবিতে অনলাইনে চালু হওয়া এক পিটিশনে স্বাক্ষর দুই দিনেই ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

সাধারণ মানুষের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাজ্যের বিরোধী দলগুলোও সফর স্থগিতের দাবি জানাচ্ছে। সরকারি দলের কোনো কোনো এমপিও থেরেসা মে-র সমালোচনা করে বলছেন, এত তড়িঘড়ি করে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানানোর কোনো দরকার ছিল না।

নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের তোয়াক্কা না করা ট্রাম্প ক্ষমতা নিয়েই একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করে তাঁর বিতর্কিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান প্রকল্প স্থগিত করার পাশাপাশি সাত দেশের মুসলিম নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী তুমুল সমালোচনার মধ্যেই গত শুক্রবার প্রথম কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে থেরেসা মে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু বৈঠকে অভিবাসন, শরণার্থী ও মুসলিমদের বিষয়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত অবস্থানগুলোর বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগের কথা তুলে না ধরে সমালোচনার শিকার হন থেরেসা মে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্য সফরের আমন্ত্রণের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাজ্যের রীতিনীতি অনুযায়ী, কোনো দাবিতে চালু হওয়া পিটিশনে এক লাখ মানুষ স্বাক্ষর করলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদে বিতর্ক আয়োজন বাধ্যতামূলক। আর ট্রাম্পের সফর বাতিলের দাবিতে চালু হওয়া পিটিশনে স্বাক্ষর ছাড়িয়েছে ১০ লাখ। ৩১ জানুয়ারি ২০১৭ মঙ্গলবার পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে বলে জানা গেছে।

লিডস শহরের গ্রাহাম গেস্ট নামের একজন আইনজীবীর চালু করা পিটিশনে বলা হয়, ‘যুক্তরাজ্যে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেওয়া তাঁর বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোকে স্বীকৃতি দেবে। ট্রাম্পকে আতিথেয়তা প্রদান ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য মর্যাদাহানিকর হবে এবং রানির সঙ্গে তোলা ছবি ট্রাম্প নিজের গ্রহণযোগ্যতা জাহির করার কাজে ব্যবহার করবেন।’

২১ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে লন্ডনে ট্রাম্পবিরোধী উইমেন্স মার্চ-এ অংশ নেন লাখখানেক মানুষ।

২১ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে লন্ডনে ট্রাম্পবিরোধী উইমেন্স মার্চ-এ অংশ নেন লাখখানেক মানুষ।

যুক্তরাজ্যের রানি বছরে দুই থেকে তিনজন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানকে দেশটিতে রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ জানান। সফরকালে সংশ্লিষ্ট অতিথি রাজপ্রাসাদ ও সরকারের তরফ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান পেয়ে থাকেন।

লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এক টুইট বার্তায় বলেন, যতদিন ডোনাল্ড ট্রাম্প শরণার্থী ও মুসলিমদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রাখবেন, ততদিন যেন তাঁর যুক্তরাজ্য সফর স্থগিত রাখা হয়। লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও একই দাবি তুলেছেন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা টিম ফ্যারন স্কাই নিউজকে বলেন, ‘থেরেসা মে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ মূল্যবোধগুলোকে গুরুত্ব দেননি। বরং বিষয়গুলোতে চুপ থেকে বিতর্কিত ওই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে এসেছেন।’

স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির নেতা অ্যালেক্স স্যালমন্ডের মতে, ট্রাম্পকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হবে ‘অত্যন্ত বাজে কাজ’। বর্ণবাদবিরোধী সংগঠনগুলো আজ সোমবার যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। দাবি উপেক্ষা করে ট্রাম্পের সফর অনুষ্ঠিত হলে ওই সময় তারা স্মরণকালের সর্ববৃহৎ বিক্ষোভ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানাচ্ছে, থেরেসা মে এই সফর বাতিলের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এটি করা হলে দুই নেতার বৈঠকে অর্জিত সাফল্য ভেস্তে যাবে। তবে ট্রাম্পের সফরের জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

Share.

Leave A Reply