৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|২২ নভেম্বর, ২০১৭|বুধবার, বিকাল ৫:০৯

বইমেলায় সাদিয়া মুমু’র ‘দরিয়ার চিঠি’

ফিচার ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

কবিতার মাঝে জীবনবোধকে গভীরভাবে অন্বেষণ করেন কবি সাদিয়া মুমু। মানুষের সহজাত প্রেম-ভালোবাসা আর হৃদয়বৃত্তিকেই নিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য করেছেন তিনি। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দরিয়ার চিঠি’ প্রকাশিত হয়েছে এবারের গ্রন্থমেলায়। বইটিতে কবিতার বৈচিত্র্য, শক্তি বা স্বাদ কেমন, বই হাতে পেলে তার বিচার পাঠকই করবেন। তবে বইয়ের পাতায় স্থান পাওয়া কবিতাগুলো যে কবি তার সামর্থ্যের সর্বোচ্চটি দিয়ে লিখেছেন তা বলাই যায়।

বইটি প্রকাশ করছে ‘সাপ্নিক প্রকাশন’। এটি পাওয়া যাবে গ্রন্থমেলার বাংলা একাডেমি অংশের লিটল ম্যাগ চত্বরে ‘স্বপ্নিল প্রান্তর’-এর উন্মুক্ত ২ নং স্টলে।

সাদিয়া মুমু’র পুরো নাম সাদিয়া বিনতে শাহজাহান। তরুণ এ কবি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। নিজের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশে অফুরন্ত উৎসাহ পেয়েছেন বাবা এজিএম শাহজাহান-এর কাছ থেকে।

‘দরিয়ার চিঠি’ বইটির ভূমিকা লিখেছেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক। তার ভাষায়, “সাদিয়া বিনতে শাহজাহান নাগরিক কবি। কিন্তু রোজকার নগর জীবনের কোলাহলের মধ্যে থেকেও তাঁর মন ছুটে যায় কল্পনা ও স্মৃতিময় জগতে। মানুষের যাপিত জীবনের পাশাপাশি প্রেম ও প্রকৃতি, প্রত্যাশা ও আকুলতা বাণীময় হয়ে ওঠে তাঁর কবিতার ছন্দে ও উপমায়, আবেগ ও চিত্রকল্পে।”

সাদিয়া মুমু

সাদিয়া মুমু

সাদিয়া মুমু’র কবিতাকে নিছক প্রেমের কবিতা বলা যাবে না। প্রকৃতি সমাজ ও মানুষের মধ্যে যেসব হৃদয়বৃত্তি আভাসিত; তাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা আছে এতে। তাই কংক্রিটের জঞ্জালে হারানো শৈশব, হারানো আনন্দ, হারানো সময় প্রায়শ মূর্ত হয়ে ওঠে তাঁর কবিতায়।

‘দরিয়ার চিঠি’ কাব্যগ্রন্থে কবির স্মৃতিভারাতুর মনের ছবি ধরা পড়বে ‘মেয়ে বেলা’, ‘সোনালী অতীত’, ‘অতীত স্মৃতি’ ইত্যাদি কবিতায়। ‘অতল’ কবিতায় আভাসিত হয়েছে কবির স্বপ্নিল আকাঙ্ক্ষা। প্রকৃতির প্রাণসত্তার সঙ্গে অভিন্নতার অনুভব লক্ষ করা যায় ‘জোনাক কাব্য’ কবিতায়।

‘তুমি’ কবিতায় প্রেমবোধের মধ্যে স্ফূরণ ঘটেছে সংগ্রামী চেতনার। কখনো কখনো কবি জীবনপথিকের মতো জীবনের পথচলাকে নিরীক্ষণ করেছেন। এ ধরনের কবিতার মধ্যে পড়ে ‘বেলা’, ‘জীবন জোয়ার’, ‘বেলা-অবেলা’ ইত্যাদি।

‘যন্ত্রের পৃথিবী’ কবিতায় প্রেম-অপ্রেম দুটোকেই অনুভব করেছেন কবি। ‘দরিয়ার চিঠি’ কবিতায় প্রেম ও বিরহের দোলাচলে অনুরণিত হয়েছে হৃদয়। কোনো কোনো কবিতা আক্রান্ত রোমান্টিক বিচ্ছিন্নতাবোধে। যেমন : ‘কথোপকথন’, ‘একদিন’, ‘প্রেমহীনতা’ ইত্যাদি।

নানা বিচিত্র অনুভবে সমৃদ্ধ সাদিয়া বিনতে শাহজাহানের কাব্যগ্রন্থ। তাতে পাঠক অনুভব করবেন মুক্ত জীবনের জন্য আকুলতা (মুক্তি’), গতিময় জীবনের অস্তিত্বময়তার বোধ (‘যাপিত জীবন’), প্রকৃতির কোলে রোমান্টিক সৌন্দর্য সন্ধানের আর্তি (‘অন্বেষণ’, ‘খুঁজেছি তোমায়’), আনন্দময় শেশব-কৈশোর জীবনের প্রাণপ্রাচুর্য (‘ভালো আছি’) এবং প্রেম ও সৌন্দর্যের জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা (‘প্রিয় পুষ্পরাগ’)।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে সাদিয়া মুমু

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে সাদিয়া মুমু

এসবের পাশাপাশি কবিকে দেখা যাবে সামাজিক দায়বদ্ধতার আঙিনাতেও। সুন্দরবিনাশী অপশক্তির অপচ্ছায়ার বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নেন ‘অমানিশা’, ‘বারুদের শহর’, ‘নিশুতি শুভ্র চাঁদ’ ইত্যাদি কবিতায়। ‘পূর্বাতীত’ কবিতায় পীড়িত হন স্বচ্ছন্দ জীবনের ওপর চেপে বসা যান্ত্রিকতায়। এমন পরিস্থিতিতে কবিকে দেখা যায় প্রতিকূলতা মোকাবেলায় প্রত্যয়ী হতে (‘সোনালী রোদ্দুর আমায় আহত করতে পারে না’)। বিশেষ করে কবি যে মানবতাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ তা বুঝতে পাঠকের দেরি হয় না। কারণ সব ক্রান্তিকাল ছাপিয়ে তার কবিতায় মূর্ত হয় মানবতার গান।

অধ্যয়ন ও লেখালেখির পাশাপাশি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত তৃণমূল মানুষের জন্য কাজ করে চলছেন সাদিয়া মুমু। এই সূত্রে সমাজকে কাছে থেকে গভীরভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে। ফলে তাঁর কবিতার রোমান্টিকতার সঙ্গে মিশে গেছে সমাজ-সচেতনতা। এভাবে জীবনের বিচিত্র অনুভবকে তিনি বাণীময় করতে চেয়েছেন কবিতার নানা উপমা ও চিত্রকল্পের আশ্রয়ে।

Share.

Leave A Reply