গ্যাসের দাম বাড়লো ২২.৭৩%; সিঙ্গেল চুলা ৯০০, ডাবল ৯৫০ টাকা

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বাড়াল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। দুই ধাপে বর্ধিত এ মূল্যহার কার্যকর হবে। প্রথম ধাপে বাড়ানো হয়েছে গড়ে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, আগামী ১ মার্চ থেকে যা কার্যকর হবে। প্রথম ধাপের বর্ধিত মূল্যের ওপর আরো ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বাড়বে দ্বিতীয় ধাপে। এটা কার্যকর হবে আগামী ১ জুন থেকে।

বিইআরসি গতকাল গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্যাসের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে। আটটি খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহূত গ্যাসের দাম। গৃহস্থালির প্রায় সমহারে বাড়ানো হয়েছে বাণিজ্যিকে ব্যবহূত গ্যাসের দামও।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ওই সময় গ্রাহক পর্যায়ে সব ধরনের গ্যাসের দাম গড়ে ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছিল। এর দেড় বছরের মাথায় গতকাল আবারো গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এল।

নতুন মূল্যহার অনুযায়ী, গৃহস্থালিতে প্রথম দফায় আগামী ১ মার্চ থেকে এক চুলার জন্য মাসিক বিল পরিশোধ করতে হবে ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৭৫০ টাকা। দুই চুলার বিল দাঁড়াবে বিদ্যমান ৬৫০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১ জুন থেকে এক চুলার ক্ষেত্রে মাসিক বিল বেড়ে হবে ৯০০ টাকা ও দুই চুলার ক্ষেত্রে ৯৫০ টাকা। এ হিসাবে এক চুলার ক্ষেত্রে জুন থেকে বিদ্যমান মূল্যের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি পরিশোধ করতে হবে গ্রাহককে। দুই চুলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হবে ৪৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। তবে গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে আরো বেশি ৬০ শতাংশ। আগামী জুন থেকে এই শ্রেণীতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারের জন্য গ্রাহককে বিল পরিশোধ করতে হবে ১১ টাকা ২০ পয়সা। গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের বর্তমান মূল্য প্রতি ঘনমিটারে ৭ টাকা।

প্রথম দফায় বাড়তি দামে গৃহস্থালি গ্যাস ব্যবহার প্রতি মাসে এক বার্নার (সিঙ্গেল চুলা) ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। একইসঙ্গে দুই বার্নার (ডাবল চুলা) ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ টাকা। দ্বিতীয় দফায় ১ জুন থেকে এক বার্নার (সিঙ্গেল চুলা) ৯০০ টাকা এবং দুই বার্নার (ডাবল চুলা) ৯৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্যিক খাতেও গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বাণিজ্যিকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের জন্য গ্রাহককে বর্তমানে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা পরিশোধ করতে হলেও আগামী জুন থেকে তা বেড়ে হবে ১৭ টাকা ৪ পয়সা। তবে মার্চ থেকে জুনের আগ পর্যন্ত এই শ্রেণীর প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের জন্য বিল পরিশোধ করতে হবে ১৪ টাকা ২০ পয়সা।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, গ্রাহকদের সামর্থ্য ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অযৌক্তিক মূল্য চাপিয়ে দেয়া হয়নি। জ্বালানি খাতে ভবিষ্যতে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। সেই প্রয়োজন মেটাতে বর্ধিত মূল্যহার ভূমিকা রাখবে।

শিল্পে ব্যবহূত গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। শিল্পে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের বর্তমান মূল্য ৬ টাকা ৭৪ পয়সা হলেও জুন থেকে তা বেড়ে হবে ৭ টাকা ৭৬ পয়সা। আর মার্চ থেকে জুনের আগ পর্যন্ত এই শ্রেণীর প্রতি ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারে গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে ৭ টাকা ২৪ পয়সা।

ক্যাপটিভ পাওয়ারে ব্যবহূত গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। এই শ্রেণীর প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের বিদ্যমান মূল্য ৮ টাকা ৩৬ পয়সা হলেও আগামী জুন থেকে তা বেড়ে হবে ৯ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগের তিন মাসের জন্য ক্যাপটিভে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ টাকা ৯৮ পয়সা।

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ দুটি উপাদান হলো সস্তা শ্রম ও জ্বালানির সহনীয় মূল্য। এরইমধ্যে শ্রমের মজুরি বেড়েছে। একইসঙ্গে জ্বালানির মূল্যও বাড়ানো হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্যই টিকে থাকা কঠিন হবে।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে গ্যাসের বর্ধিত মূল্য ঘোষণা করা হলেও সার ও বিদ্যুৎ উত্পাদন খাতকে এর বাইরে রাখা হয়েছিল। এবার এ দুই শ্রেণীতে গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের বিদ্যমান মূল্য ২ টাকা ৮২ পয়সা। তবে জুন থেকে তা বেড়ে হবে ৩ টাকা ১৬ পয়সা। জুনের আগের তিন মাসে এ খাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম হবে ২ টাকা ৯৯ পয়সা। সার কারখানায় ব্যবহূত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম বিদ্যমান ২ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে বেড়ে জুনে দাঁড়াবে ২ টাকা ৭১ পয়সা। আর মার্চ থেকে জুনের আগ পর্যন্ত এ মূল্যহার হবে ২ টাকা ৬৪ পয়সা।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সিএনজির দাম বাড়ানো হয়েছে ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার সিএনজির মূল্য ৩৫ টাকা হলেও আগামী জুন থেকে তা বেড়ে হবে ৪০ টাকা। জুনের আগের তিন মাসে এর দাম হবে ৩৮ টাকা।

সিএনজির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে গতকালই লিখিত বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, যেখানে দেশের গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো উল্লেখযোগ্য হারে মুনাফা করছে, সেখানে সিএনজির দাম বাড়িয়ে গণপরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ তৈরির কোনো যৌক্তিকতা নেই। সিএনজি খাত ৫ শতাংশেরও কম গ্যাস ব্যবহার করে ২২ শতাংশের বেশি রাজস্ব প্রদান করে।

Share.

Leave A Reply