১০ মাঘ, ১৪২৪|৪ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|২৩ জানুয়ারি, ২০১৮|মঙ্গলবার, রাত ২:৩৬

পৃথিবীর মতো ৭ গ্রহের সন্ধান, প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা

সায়েন্স ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

স্টিফেন হকিং তো অনেক আগে থেকেই দাবি করে আসছেন, দুনিয়ার বাইরেও নাকি রয়েছে বুদ্ধিমান প্রাণি (এলিয়েন)। এবার সম্ভবত সেই দাবির সপক্ষেই প্রমাণ পেতে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি আমাদের এই সৌরজগতের মতোই আরেকটি সৌরজগতের সন্ধান পেয়েছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষকরা। সেখানে নাকি আবার একেবারে পৃথিবীর সমান আকার এবং তাপমাত্রার সাতটি গ্রহেরও অস্তিত্ব রয়েছে। থাকতে পারে প্রাণের অস্তিত্বও।

নাসার এক টুইটার বার্তায় জানানো হয়েছে এই নতুন আবিষ্কারের কথা। সংস্থার সদর দফতর ওয়াশিংটনে একটি সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘ট্র্যাপিস্ট-১’ নামে একটি ‘অতি-শীতল’ বামন নক্ষত্রকে ঘিরে সাতটি গ্রহ প্রদক্ষিণ করছে। এগুলোর পৃষ্ঠ শিলাময়, মহাসাগরের অস্তিত্বও থাকতে পারে।

আমাদের সৌরজগৎ থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে নতুন এই সৌরজগতের সন্ধান মিলেছে, যেখানে গ্রহগুলো একটি বড় নক্ষত্রকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করছে। এটিই এ ধরনের প্রথম কোনো আবিষ্কার। নতুন আবিষ্কৃত সাতটি গ্রহের মধ্যে তিনটি প্রাণ টিকে থাকতে পারে নক্ষত্রের এমন অঞ্চলে অবস্থিত। গ্রহ তিনটির নাম দেয়া হয়েছে: ট্রাপিস্ট ১ই, এফ এবং জি।

২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বুধবার রাতে নাসার ওই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ডুডল পরিবর্তন করে ফেলেছে গুগল। নতুন আবিষ্কারকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। সেখানে দেখানো হচ্ছে সুন্দর একটি অ্যানিমেশন। ছোট্ট দূরবীনে চোখ রেখেছে স্বয়ং পৃথিবী। সঙ্গে একটু উকিঝুঁকি মারছে চাঁদও। হঠাৎ হাসিমুখে সামনে চলে এসেছে পৃথিবীর মতোই একটি গ্রহ।

সম্প্রতি নেচার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে নাসার এই আবিষ্কার। বিজ্ঞানীরা জানান, ট্র্যাপিস্ট-১ নামের যে নক্ষত্রটির সন্ধান তারা পেয়েছেন, সেটির আয়তন বৃহস্পতি গ্রহের সমান।

নাসার গবেষক থমাস জুরবুচেনের মতে, এই আবিষ্কার থেকে একটা ইঙ্গিত স্পষ্ট-
দ্বিতীয় পৃথিবী রয়েছে। অর্থাৎ আবার ঘুরে ফিরে আসছে সেই কথা- এই
মহাবিশ্বে কি আমরা একা, নাকি আরো
কেউ রয়েছে আমাদের মতো?
সেই প্রশ্নের উত্তর এবার সম্ভবত পেতে চলেছে বিজ্ঞান।

এদিকে নাসা জানিয়েছে, নতুন গ্রহগুলোতে প্রাণ আছে কি না- তা বোঝা যাবে গ্রহগুলোর আবহাওয়া ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণার পর। তবে প্রাণ থাকার সম্ভাবনাই বেশি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আমুরি ট্রিউড বলেন, ‘পৃথিবীর বাইরে প্রাণের খোঁজে এটা আমাদের একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ।’

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) বিজ্ঞানী সারা সিগার বলেন, ‘গ্রহ সন্ধানের ইতিহাস বলছে, যদি একটি গ্রহ আবিষ্কার হয়, তাহলে সেখানে আরো বহু গ্রহ থাকবে।’

তিনি জানান, ২০১৮ সালেই নাসা জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ আনছে। এর মাধ্যমেই গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডলে কী রয়েছে, তা জানা যাবে। যদি বায়ুমণ্ডলে ওজোন, অক্সিজেন বা মিথেনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রাণের সন্ধান থাকার সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল।

নাসার গবেষক থমাস জুরবুচেনের মতে, এই আবিষ্কার থেকে একটা ইঙ্গিত স্পষ্ট- দ্বিতীয় পৃথিবী রয়েছে। অর্থাৎ আবার ঘুরে ফিরে আসছে সেই কথা- এই মহাবিশ্বে কি আমরা একা, নাকি আরো কেউ রয়েছে আমাদের মতো? সেই প্রশ্নের উত্তর এবার সম্ভবত পেতে চলেছে বিজ্ঞান। গ্রহগুলোর একটিতেও যদি পৃথিবীর মতো আবহাওয়া পাওয়া যায় তবে নিশ্চিতভাবেই প্রাণের অস্তিত্বও পাওয়া যাবে। সূত্র: সিএনএন।

Share.

Leave A Reply