মন্ত্রীর বাসায় পরিবহন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত?

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম:

যাত্রীদের জিম্মি করে আদালতের রায় বদলানোর কৌশল নিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। এবার এই কৌশল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত এল সরকারের একজন মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে বসে। আর এই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত একজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী এবং সরকার-সমর্থক পরিবহনমালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০৭ সোমবার দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা বিভাগীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে সরকারের স্থানীয় প্রশাসনের বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু রাতে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সরকারি বাসভবনে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়। গভীর রাতে ঘোষণা আসে, মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে লাগাতার পরিবহন ধর্মঘট। আকস্মিক এই ঘোষণার শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

নৌমন্ত্রী সারা দেশের শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ ফোরাম বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। ওই বৈঠকে বাস ও ট্রাকমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় সরকার পল্লিউন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ প্রায় ৫০ জন মালিক-শ্রমিকনেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের প্রায় সবাই সরকার-সমর্থক বলে পরিচিত।

শাজাহান খানের বাসায় বৈঠকের বিষয়ে মসিউর রহমান বলেন, ‘আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য। শ্রমিকেরাও রাজি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ফাঁসির রায়ের খবর আসলে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তখন আর আমাদের কিছু করার ছিল না।’

মালিক-শ্রমিক সংগঠন সূত্র জানায়, বৈঠকে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করার কৌশল নেওয়া হয়। কারণ, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও সরকার সমর্থকেরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। তাই দায় এড়াতেই এমন কৌশল নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় নেতারাই ফোনে আঞ্চলিক নেতাদের ধর্মঘট পালনের নির্দেশ দেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সচিবালয়ে এই ধর্মঘটকে দুঃখজনক উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাঁদের (পরিবহনশ্রমিক) উদ্দেশে বলতে চাই, জনগণকে কষ্ট না দিয়ে আপনারা আদালতে এসে আপনাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। আপনাদের বক্তব্য যদি যুক্তিসংগত হয়, তবে তা দেখা হবে। যুক্তিসংগত না হলে দেখা হবে না।’ এই ধর্মঘটে আদালত অবমাননা হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি আদালতের বিবেচ্য বিষয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, মালিক-শ্রমিকদের নেতারা আজ বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁরা ধর্মঘট থেকে বেরিয়ে আসার একটা পথ খুঁজছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের প্রাণহানির মামলায় ঘাতক বাসের চালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া এই রায়ের প্রতিবাদে প্রথমে আঞ্চলিকভাবে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এদিকে সাভারে ট্রাকচাপায় এক নারীকে হত্যার দায়ে চালকের বিরুদ্ধে সোমবার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। কার্টিসি: প্রথম আলো।

Share.

Leave A Reply