অহ নওরোজ, নতুন এক আলোকবর্তী

সাহিত্য ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: সাহিত্যকে বলা হয়তে থাকে কোন জাতি বা সমাজের দর্পণ। একটি সমাজের কিংবা একটি সময়ের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় সাহিত্যে। সাহিত্যিকরা হলেন সেই দর্পণের নির্মাতা। লেখনির মাধ্যমে তারা নিজেকে সমাজের জন্য নিয়জিত করে থাকেন। একজন সাহিত্যিক অতীত ও বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ঘটনার সকল বিষয়ের ওপর তীক্ষ্ণ নজর দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন যা খুব একটা সহজ নয়। মেধা ও শ্রম দিয়ে তারা জীবন ঘনিষ্ঠ রচনা সম্ভারে মানবজমিনকে সমৃদ্ধ করেন।

সাহিত্যের বিভিন্ন ধরণের শাখা রয়েছে। তার মধ্যে সবথেকে শ্রেষ্ঠ শাখা বলা হয়ে থাকে কবিতাকে। আর কবিতা চর্চা যারা করে থাকেন তাদেরকে কবি বলা হয়। বর্তমান বাংলা ভাষার কবিতাকে যারা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতিশীল হিসেবে কাজ করে চলছেন তাদের মধ্যে কবি অহ নওরোজ অন্যতম। তবে তিনি শুধুই কবিই নয় বিভিন্ন বিষয়ের উপর পড়াশোনা করে থাকেন। কবিতার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান, সৃষ্টিতত্ত্ব,অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, সহ সিনেমার উপরে লেখালেখি করে থাকেন।

অহ নওরোজ ১২ই জুন বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেছেন। বেড়ে উঠেছেন যশোর জেলার অভয়নগরে। বাবা ইসলাম উদ্দিন এবং মাতা কাজী আনোয়ারা পারভীনের জ্যৈষ্ঠ পুত্র অহ নওরোজের জন্মের পর নাম রাখা হয় মহিউল ইসলাম। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজের নাম পাল্টে রাখেন অহ নওরোজ। এবং পরবর্তীতে সময় বাড়ার সাথে সাথে তার পরিচিতও বাড়তে থাকে।

অহ নওরোজের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ  ‘রোমন্থনের সনদ’ ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয়। ভিন্নধর্মী কবিতার
জন্য এটি পাঠকমহলে বেশ সাড়া ফেলে। বইটির প্রচ্ছদ একেছিলেন স্লোভেনিয়ান শিল্পী
ওলগা জেহাফ –যে কারণে গ্রন্থটি নিয়ে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে আগ্রহের সৃষ্টি হয়।

তাঁর কবিতায় মূলত নারীপ্রেম, স্মৃতিচারণ, উত্তরাধুনিকতা, দর্শন, সৌন্দর্য সহ আরও অনেক বিষয় উপজীব্য। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নীল নৌকার নারী’  সালে প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। উল্লেখিত গ্রন্থটির ‘স্বাধীন চেতনা’ শিরোনামের কবিতার ‘স্বাধীনতা মানে স্বচ্ছ আয়ুর ভেতর শান্ত উপসংহার’ বাক্যটি বিশেষ প্রশংসিত হয়। কবিতাটি বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকামুল্লাহ আবৃত্তি করলে কবিতাটি বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

অহ নওরোজের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ  ‘রোমন্থনের সনদ’ ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয়। ভিন্নধর্মী কবিতার জন্য এটি পাঠকমহলে বেশ সাড়া ফেলে। বইটির প্রচ্ছদ একেছিলেন স্লোভেনিয়ান শিল্পী ওলগা জেহাফ –যে কারণে গ্রন্থটি নিয়ে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে আগ্রহের সৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে তরুণ বয়সেই বাংলা কবিতায় নতুন আলোড়ন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

অহ নওরোজের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয় তাঁর বাবার কাছে। এরপর প্রথমে অভয়নগরের অন্তর্গত নওয়াপাড়ার আল-হেলাল স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এখান থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে সরকারী মেধাতালিকায় বৃত্তি লাভ করেন। এরপর সেখান থেকে পিতার ইচ্ছায় ধর্মীয় শিক্ষার জন্য ভর্তি হন নওয়াপাড়া পীরবাড়ী মাদ্রাসায় (জামিয়া আরাবিয়া মুহিউল ইসলাম)। সেখান থেকে আরবি এবং ফার্সি ভাষায় জ্ঞান লাভ করে ৩ বছর পর ধর্মীয় শিক্ষা ছেড়ে দিয়ে নওয়াপাড়া শঙ্করপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হন। সেখান থেকে এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ ফাইভ লাভ করেন। এরপর উচ্চমাধ্যমিক পড়ার জন্য ভর্তি হন নওয়াপাড়া মডেল কলেজে। সেখান থেকে আইএসসি পরিক্ষা শেষে ঢাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য আসেন এবং পরিসংখ্যান বিভাগে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন। কলেজের প্রথম বর্ষে পড়াকালীন সময়ে যশোর থেকে প্রকাশিত ‘গ্রামের কাগজ’ পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রকাশিত হয় অহ নওরোজের প্রথম কবিতা ‘নীল টিপ’৷

লেখালেখির পাশাপাশি ছাত্র অবস্থা থেকেই তিনি সাংবাদিকতার  সাথে জড়িত। তিনি প্রধানত একজন উত্তরাধুনিক কবি। নারীপ্রেম, স্মৃতিচারণ, উত্তরাধুনিকতা, দর্শন,সৌন্দর্য সহ আরও অনেক বিষয় উপজীব্য। তাঁর লেখালেখি নিয়ে নিজের বক্তব্য হলো: ‘নিজের সুখের কারণেই আমি লেখালেখি করি এবং জাগতিক-মহাজাগতিক বিষয়ে কৌতূহলের কারণে আমি সবকিছু আমি পর্যবেক্ষণের চোখে দেখি’। তার বহুল পঠিত কবিতাসমূহের মধ্যে – স্বাধীন চেতনা, লাল সবুজের নাশপাতি, ওজুম ইত্যাদি অন্যতম।  বাংলাদেশের তরুণ কবিদের মধ্যে সবথেকে আলোচিত এই তরুণ বর্তমানে লেখালেখির পাশাপাশি ‘রা’ নামে একটি ছোটকাগজ সম্পাদনা করেন।

বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply