৫ আশ্বিন, ১৪২৫|৯ মুহাররম, ১৪৪০|২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮|বৃহস্পতিবার, রাত ১০:৪৯

শিল্পীর ক্যানভাসে ইতিহাসের কালপঞ্জি

সাদিয়া শারমিন, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: ইতিহাসের ধারাবাহিকতাভিত্তিক চিত্রাঙ্কনের ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে চিত্রশিল্পে শক্তিশালী অবস্থান করে নেওয়া এক বরেণ্য শিল্পীর নাম রাফায়েল। কালোত্তীর্ণ শিল্পী হিসেবে আজ ইতিহাসের পাতায় তিনি স্মরণীয়-বরণীয়। বিশেষ করে ইতালীয় রেনেসাঁর স্বকীয় ধারা নির্মাণের মধ্য দিয়ে কিংবদন্তিতুল্য হয়ে আছেন এ মানুষটি।

শিল্পী রাফায়েল-এর জন্ম ১৪৮৩ সালের ৬ এপ্রিল। ইতালির অরবিনো’তে তার জন্ম। পুরো নাম রাফায়েল্লো সেনজিও দ্য অরবিনো। ইংরেজিতে সচরাচর রাফায়েল লেখা হয়। তার বাবা জিওভানি দ্য সেনজিও ছিলেন একজন খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী ও স্থপতি।

জীবনের প্রথম ভাগের প্রায় পুরোটাই উচ্চ টাইবার উপত্যকার উম্ব্রিয়া নামক এলাকায় অতিবাহিত করেন রাফায়েল। এরপর ১৫০৪ সালের শেষদিকে তিনি ফ্লোরেন্সে যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি ‘ফ্লোরেন্টাইন অধ্যায়’ নামে অভিহিত হন। ১৫০৮ সালের শেষদিকে রোমে যান। ১৫০৯ সাল নাগাদ পোপ দ্বিতীয় জুলিয়াসের জন্য কাজ করার মধ্য দিয়ে রোমের স্থায়ী বাসিন্দাতে পরিণত হন বরেণ্য এ শিল্পী।

ধারণা করা হয় রোমেই ১৫১০-১৫১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি রেনেসাঁ যুগের বিখ্যাত চিত্রকর্ম স্কুল অব এথেন্স আঁকেন। এই কাজের মধ্য দিয়ে তিনি মূলত উচ্চমার্গীয় আত্মিক সম্পর্কের বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছেন।

পোপের বাসভবনে তার এই শিল্পকর্ম এখনও স্বমহিমায় সংরক্ষিত আছে। শুধু রাফায়েলের জন্যই পোপের একটি স্বতন্ত্র কামরা আছে যেখানে ঠাঁই পেয়েছে তার নান্দনিক সব চিত্রকর্ম।

রাফায়েলের চিত্রকর্মে আলোছায়ার গভীর বিন্যাসে সৌন্দর্য চর্চা ও বাস্তব অনুভূতির প্রগাঢ়তা লক্ষ্যণীয়। প্রায় প্রতিটি চিত্রকর্মেই তিনি মেধা ও সৃজনশীলতার এক অপরূপ সমন্বয়ের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। দেখিয়েছেন মানব প্রকৃতির ভিন্নধর্মী মনস্তাত্ত্বিক ব্যাঞ্জনা, স্বাভাবিকতা আর নমনীয়তা। ফুটিয়ে তুলেছেন কাব্যিকতার নিদারুণ সামঞ্জস্যের উপমা।

মূলত চিত্রকলাতে তার দখল বেশি থাকলেও স্থাপত্য ও প্রত্নতত্ত্ব নিয়েও আগ্রহ ছিল এই শিল্পীর। সৃজনশীলতা ও স্বকীয়তা দিয়ে খুব কম সময়েই তিনি রোমের বুদ্ধিজীবী মহলে ব্যাপক সম্মান অর্জন করেন।

জীবনের শেষদিকে অনেকটা রাজকীয় সম্মান নিয়ে প্রাসাদোপম ভবনে বসবাস করতেন রাফায়েল। চমৎকার মুখাবয়ব আর আন্তরিক ব্যবহারের জন্য বরাবরই তিনি সর্বস্তরে সমাদৃত হতেন।

রেনেসাঁর দৃশ্যপটে রাফায়েলের আবির্ভাব ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সে। রোমের বহু বিখ্যাত ভবনের দেয়ালচিত্র এঁকে তিনি ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন। এর মধ্যে পোপের পাঠাগার ও দফতর, ভ্যাটিকানের স্তানজা দেল্লা সেইঞাতুরা, স্তানজা দেলিওদোরো প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এর পাশাপাশি সিস্তিন চ্যাপেলের সাজসজ্জার কাজের পূর্ণতা সাধনের জন্য ১০টি বৃহৎ পর্দার নকশা অঙ্কনে দক্ষতা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন রাফায়েল। তার সবচেয়ে বিখ্যাত দেয়ালচিত্রের নাম ‘বোর্গো-তে অগ্নিকা’।

রাফায়েলের বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পোপ দ্বিতীয় জুলিয়াসের প্রতিকৃতি, সন্ত মিখাইল, কুমারীর বিবাহ, দ্য করোনেশন অব দ্য ভার্জিন, মাদোন্না দেল গ্রান্দুচা, লা বেল জার্দিনিয়্যার, মাদোন্না দ্য কাসা তেম্পি, দ্য এন্টুম্বমেন্ট, লাওকুন (ভাস্কর্য), দ্য রিপালস অব আত্তিলা ইত্যাদি।

ট্রান্সফিগারেশান ছিল তার শেষ জীবনের এক অসমাপ্ত কাজ। ১৫২০ সালের ১৬ এপ্রিল রোমে এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

Share.

Leave A Reply