৬ মাঘ, ১৪২৪|১ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|১৯ জানুয়ারি, ২০১৮|শুক্রবার, রাত ১১:৩০

আট লাখ টাকায় এক কাপ চা!

লাইফস্টাইল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: কথা সত্যি, এক কাপ চায়ের দাম আট লাখ টাকা! চা না পান করেই ঠোঁট পুড়ে যাওয়ার জোগাড় প্রায়! আকাশছোঁয়া দামের এই চায়ের নাম ডা হং পাও। নাম দেখেই হয়তো আন্দাজ করে ফেলেছেন, এর প্রাপ্তিস্থান চীন। দেশটির উয়িশান অঞ্চলের উয়ি পর্বতে জন্মে ডা হং পাওয়ের গাছ।

কী আছে এই চায়ে যে তার এমন ‘উদ্ভট’ দাম? তার আগে এর স্বাদের কথায় আসা যাক। বিবিসি সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডা হং পাও চায়ের ওপর। সেখানে বলা হয়েছে, চমৎকার মিষ্টি একটা ঘ্রাণ আছে এই চায়ের। শুকনো চা–পাতা দেখতে অনেকটা আমের আচারের মতো। চীনে এ ধরনের চায়ের একটা কিতাবি নাম আছে—ওলং টি।

স্বাদ-গন্ধ-বর্ণের জন্য নয়, ডা হং পাও চা এত দামি অন্য কারণে (এক গ্রাম ডা হং পাও চায়ের দাম প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার টাকা)। মূলত দুষ্প্রাপ্য বলেই দামের এমন বাহার। ডা হং পাও চায়ের ছয়টি গাছ আছে চীনের উয়ি পর্বতের গায়ে।

চীনের উয়িশান অঞ্চলের উয়ি পর্বতে জন্মে ডা হং পাও-এর গাছ।

চীনের উয়িশান অঞ্চলের উয়ি পর্বতে জন্মে ডা হং পাও-এর গাছ।

একটা গল্প প্রচলিত আছে। চীনের মিং রাজবংশের (১৩৬৮-১৬৪৪) এক নৃপতির মা একবার ভীষণ অসুখে পড়লেন। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য কত কিছুই না করলেন তিনি। কিছুতেই কিছু হয় না। শেষমেশ কেউ একজন বুদ্ধি বাতলালো, ডা হং পাও চা পান করানোর ব্যাপারে। নৃপতি তা-ই করলেন। তাঁর মা সুস্থও হলেন। ব্যস, ‘কপাল’ খুলে গেল এই চায়ের। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ল এর জাদুকরি ক্ষমতার কথা। মিং নৃপতি ঘোষণা করলেন, এই চা গাছ সংরক্ষণ করতে হবে। লাল রঙের বিশেষ শামিয়ানাও পাঠালেন গাছগুলো ঢেকে রাখার জন্য। আজও একইভাবে গাছগুলো সংরক্ষিত আছে। ১৯৯৮ সালে এই গাছগুলো থেকে ২০ গ্রাম চা বিক্রি হয়েছিল ১৯ লাখ ৩০ হাজার ৩৫২ টাকায়।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই চায়ের পেছনে বিস্তর টাকাপয়সা ঢেলেছে। ফলে এই চা এখন ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে সুলভই বলা চলে। তবে সেগুলো মোটেও আসল ডা হং পাও নয়; দামে তো সস্তা হবেই। আসল ডা হং পাও চা গাছ থেকে চা–পাতা তোলা হয়েছিল বছর খানেক আগে। মজার ব্যাপার হলো, সাধারণ জনগণ এই চা চেখে দেখার সুযোগ পায় না বললেই চলে। আগেই বলা হয়েছে, ২০ গ্রাম চা–পাতা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। আর এখন ডা হাং পাওয়ের কাপে চুমুক দিয়ে ‘ফার্স্ট ক্লাস চা’ বলার সুযোগ পান কেবল চীনের সম্মানিত অতিথিরা!

বিষয়বস্তু:
Share.

Leave A Reply