৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫|১০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০|১৯ নভেম্বর, ২০১৮|সোমবার, সকাল ৭:১১

আমরাজ্যে স্বাগত

ন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: বাংলাদেশের একটি জেলায় ঢোকার মুখেই বলে দিতে পারবেন এই জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত৷ ‘স্বাগত’ লেখা কোনো তোরণ নয়, বরং চাঁপাইনবাবগঞ্জে আপনাকে সম্ভাষণ জানাবে সারি সারি আমগাছ৷ ফলে মৌসুমে যেন এই এলাকায় শুরু হয় অঘোষিত আম উৎসব৷

জেলা সদর থেকে কানসাট যেতে শিবগঞ্জের সীমানায় ঢুকতেই চোখে পড়ে আমের ডালিবোঝাই সাইকেল আর রিকশা-ভ্যানের সারি৷ সবাই ছুটছে কানসাটের আমের হাটের দিকে৷ এখানে কথা হয় সাইকেলে করে আমের ডালি নিয়ে আসা আটবিঘি গ্রামের শামীম রেজা ও গোপালনগর গ্রামের মো. সবিরের সঙ্গে৷ শামীম রেজার ডালিতে ক্ষীরশাপািত (ঢাকায় যাকে হিমসাগর বলা হয়) ও সবিরের ডালিতে ল্যাংড়া আম৷ তাঁরা জানান, খুব সকালে উঠে গাছ থেকে আম ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন বাজারে৷ আম পৌঁছে দেওয়ার পরই তাঁদের কাজ শেষ৷ দিনের মজুরি ৫০০ টাকা৷ টানা আড়াই মাস চলে এমন৷ শামীম বলেন, ‘আমের দিনে হামারঘে ঈদ ল্যাগা যায় (অর্থাৎ, উৎসব শুরু হয়ে যায়)৷’

ক্ষীরশাপাতি না ল্যাংড়া

শামীম ও সবিরকে জিজ্ঞেস করি, ভাই, ক্ষীরশাপাতি-ল্যাংড়ার মধ্যে কোনটা বেশি ভালো? শুরু হয়ে যায় ক্ষীরশা-ল্যাংড়া বিতর্ক৷ শামীম রেজা বলেন, ‘যে যা-ই কহুক, হামারঘে চাঁপাইয়ের লোকের কাছে ক্ষীরশার ওপরে আম নাই৷ একটা ডাঁসা ক্ষীরশা খাইলে জি (জীবন) ভইর্যা যায়৷’ তাঁকে থামিয়ে সবির বলেন, ‘আবে শুন, আমের রাজা হইল ল্যাংড়া৷ নাম ল্যাংড়া হইলে কী হইবে, কাম তার রাজার মতনই৷’

পেছন থেকে একজন তাঁদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আবে ক্ষীরশা-ল্যাংড়া লিয়া আর কাজিয়া করতে হইবে না৷ আম দু্টাই ভালো৷ লে চল, এখুন কামে যায়৷’

Chapai Nawabganj Mango Garden 03_The Dhaka Report

‘ফরমালিন ছুড়বেন তো মরবেন’

কানসাট আমের বাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে এখন চোখে পড়বে ‘ফরমালিন ছুড়বেন তো মরবেন’ লেখা ব্যানার৷ শিবগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে লাগানো হয়েছে এসব ব্যানার৷ কানসাট আম আড়তদার সমিতির সভাপতি আবু তালেব বলেন, কানসাট বাজারে এক ডালিতেও ফরমালিনের অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না৷ শত শত আম ব্যবসায়ীর মধ্যে দু-একজন বাগানে আম পেড়ে গোপনে ফরমালিন মিশিয়ে হয়তো ঢাকায় পাঠান৷ এর সঙ্গে জড়িত থাকে ঢাকার ব্যাপারী৷ এই দু-একজন দুষ্ট লোকের জন্য বদনাম হচ্ছে৷ ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকার৷

সকালে কাঁচা বিকেলে পাকা

কানসাটের আমের বাজারে সকালে বসে কাঁচা আমের বাজার৷ সকালের দিকে পাকা আমের খোঁজে হয়রান হলেও আপনি কোনো পাকা আম পাবেন না৷ তবে বিকেলে মিলবে নানা বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদের রসাল সব আম৷

কিভাবে যাবেন

ঢাকার শ্যামলী, কল্যাণপুর, আবদুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে হানিফ, দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলসসহ বিভিন্ন বাসযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেতে পারেন৷ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শান্তির মোড়সংলগ্ন আল নাহিদ ও মহাসড়কের পাশে স্বপ্নপুরী আবাসিক হোটেলে পাবেন থাকার সুব্যবস্থা৷

Share.