টিম ক্র্যাকপ্লাটুন: স্বপ্ন যাদের মেড ইন বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল ‘টিম ক্র্যাকপ্লাটুন’। বাংলাদেশে গাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখছে তারা। এরই মধ্যে জিতেছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ২০১৭ সালের ৫-৯ সেপ্টেম্বর যাচ্ছে জাপানে স্টুডেন্ট ফর্মুলা জাপান প্রতিযোগিতায়। তাদের সম্পর্কে তুলে ধরা হলো—

চার বছর আগে রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একদল শিক্ষার্থী গঠন করেন টিম ক্র্যাকপ্লাটুন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জনপ্রিয় ও চৌকস গেরিলা দলের নামে নাম রাখার, কারণ ‘দলটি বাংলাদেশে গাড়ি তৈরি করবে। সে গাড়িতে লেখা থাকবে মেড ইন বাংলাদেশ।’ কাজ শুরু করতে প্রথমে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অভিজ্ঞতা নেয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। তাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা খোঁজ নিতে থাকে। খোঁজ নিয়ে হতাশ হয়। কারণ বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় গাড়ি নিয়ে কোনো প্রতিযোগিতার আয়োজন করে না।

নিজ দেশে তারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ নিতে না পেরে চোখ বোলায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। পাশাপাশি নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতাকে পোক্ত করতে থাকে। প্রথম আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুযোগ আসে গত বছর। ১১-১৫ অক্টোবর ভারতের তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত কোয়ার্ডবাইক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রথমবারেই মেলে সাফল্য। জিতে নেয় বেস্ট প্যাসোনেট অ্যাওয়ার্ড। আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতার পারফরম্যান্সে তাদের দল হয় ষষ্ঠ।

সে প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিযোগীরা আসেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানতে পারেন। সে অনুসারে তারা বিভিন্ন দেশে আবেদন করতে থাকেন। সুযোগ মেলে জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং জাপানের প্রতিযোগিতায়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ মিললে দলের কাজ হাজার গুণ বেড়ে যায়। প্রতিযোগিতার বৈশিষ্ট্য অনুসারে গাড়ি বানাতে হয়। বাংলাদেশে গাড়ি তৈরি না হওয়ায় বিভিন্ন গ্যারেজ থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে গাড়ি তৈরি করতে হয়। দলের সদস্যদের যাতায়াতের বিষয় ম্যানেজ করতে হয়। বাংলাদেশ থেকে বিমানে করে প্রতিযোগিতার দেশে গাড়িটি নিয়ে আসতেও অনেক খরচ পড়ে। তাই খরচ কমানোর জন্য দলটি এ বছর শুধু জাপানের স্টুডেন্ট ফর্মুলা কার প্রতিযোগিতায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

Team Crack Platun 02

প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব সম্পর্কে দলটির ম্যানেজার মুসা মাহমুদ রানা জানান, ‘প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব হয়েছে অনলাইনে। অটোমোবাইল এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কুইজ টেস্ট হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৯০টি দেশ সুযোগ পেয়েছে। আমাদের সৌভাগ্য, আমরা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি।’

বর্তমানে গাড়ির ৪০ শতাংশ কাজ হয়েছে। টিম ক্র্যাকপ্লাটুনের দলপতি সুমিত কুমার কর্মকার জানান, আমাদের কাজ করতে হচ্ছে মেপে মেপে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান গাড়ির বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। যেমন গাড়িটি হবে এক সিটের। বাংলাদেশে গাড়ি তৈরি না হওয়ায় আমরা নিজেরা গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরি করছি। তৈরি করে তাদেরকে ছবি তুলে মেইলে পাঠিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিচ্ছি। গাড়ির নির্মাণকাজ এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের প্রজেক্টটি সম্পন্ন করতে নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করছি। অটোমোবাইল তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান রানার আমাদের বিমান টিকিট স্পন্সর করছে। এছাড়া গাড়ির নির্মাণ খরচ, জাপানে থাকা-খাওয়ার খরচ এমনকি গাড়িকে বিমানে করে নিয়ে যাওয়ার খরচও আমাদের করতে হচ্ছে।

টিম ক্র্যাকপ্লাটুনের অন্য সদস্যরা হলেন ফারহান খলিল, শাফিন মাহমুদ, অনিক কমল, আবদুল্লাহ আল মামুন, এটিএম নাসের মেহেদী আদর, ইফতেখার এনাম, শফি মো. ইশতিয়াক, রেজোয়ান মাহমুদ, আবু মুসায়েব খান, দিপাঞ্জন সরকার, জাহিদ হাসান, সৌরভ ঘোষ, রাফি উদ্দীন, খন্দকার ফেরদাউস ওয়াহিদ, মো. ফজলে রাব্বি, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রুকনুজ্জামান রনি, মো. আবু সালেহ পলাশ, মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তাহরিম জামান টিলা, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আনিকা ফাহমিদা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তানভির শাহরিয়ার উত্স, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. মাহমুদুল হাসান এবং রিজিয়া আকতার কেয়া।

দলের সদস্য রিজিয়া আকতার কেয়া জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদেরকে সবসময় উত্সাহ দেয়া হচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজনে শিক্ষকেরা আমাদের সাহায্য করছেন। আমরা রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম বেগ, মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রোকনুজ্জামান এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম স্যারের নিকট কৃতজ্ঞ।’

দলটি স্বপ্ন দেখে, বাংলাদেশেই তৈরি হবে গাড়ি। গাড়ির গায়ে লেখা থাকবে, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’। সেই সঙ্গে ক্র্যাকপ্লাটুন সদস্যরা জানান, বাংলাদেশী কোনো প্রতিষ্ঠান গাড়ি তৈরি করতে চাইলে তারা সহযোগিতা করবেন। কার্টিসি: বণিক বার্তা।

Share.

Leave A Reply