নীল খামে একগুচ্ছ মেঘ!

জিন্নিয়া সুলতানা: অরণ্য, তুই আমার কাছে এক খণ্ড মেঘ চেয়েছিস, আমি কি তা না দিয়ে পারি? শুনে খুব অবাক লাগলো, এই ঢলনামা আষাড়েও তোর আকাশে নাকি চৈত্রের কাঠফাটা রোদ।

জানিস, একসময় তোর চোখের আড়ালে ফেলা অশ্রুকণাগুলো আমার মনের আকাশে মেঘ হয়ে জমেছিল। আজ যখন তোর মেঘ প্রয়োজন আমি তা-ই তোকে দিলাম। কত দিন মনে মনে ভেবেছি, তুই আমার আকাশ ছুঁয়ে দিবি! আমার মেঘগুলো ঝরে যাবে বৃষ্টির জল হয়ে, ধুয়ে নেবে আমার সব অভিমান।

তুই তো আসলি না! মেঘে মেঘে ঘর্ষণে কত বিদ্যুৎ খেলে গেছে, অগ্নিকুণ্ডলি ছুঁয়ে গেছে আমায়।

আমি আশায় থেকেছি! চোখের ভাষায় বলেছি, প্রতিটা চিঠির খামের ভেতর আমার গোপন অনুভূতি পাঠিয়েছি, তুই বারেবার হেসেছিস, পাগল বলেছিস।

বলেছিস, আমি এখনো বড় হইনি! এখনো আবেগের ভেলায় ভাসি।

ভালোবাসায় কি মোটেও আবেগ থাকতে নেই? এই যে তুই আমাকে নিয়ে এত ভাবিস, তা কি শুধুই বিবেকের তাড়নায়?

আমাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে যে এত পথ নির্বিঘ্নে পাড়ি দেওয়ালি তাতে কি মোটেও আবেগ ছিল না?

আমি জানি ভালবাসা মোহ নয়, নয় ক্ষণিকের আবেগ! তাই আমার ভালোবাসা তোর স্পর্শে পেয়েছে শুদ্ধতা! তবু আবেগমিশ্রিত বাস্তবতায় তোর আর আমার বিচরণ।

যেখানে এক সীমাহীন স্বপ্নের ক্যানভাসে হৃদয়ের তুলি দিয়ে অবিরাম মোরা ভালবাসার ছবি আকঁছি। মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মতো মোরা লেপ্টে আছি পরস্পরে।

অরণ্য, আমার মেঘকে ভালো রাখিস! ভালো থাকিস আমার ভালোবাসায়।

ইতি-নীলাদ্রি।

Share.

Leave A Reply