মাছরাঙায় ঈদের নাটক ‘কনফিউজড’

বিনোদন প্রতিবেদক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ঈদের বিশেষ নাটক ‘কনফিউজড’। ৪৩ মিনিট দৈর্ঘ্যের নাটকটির রচনা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছিলেন মীর আসাদুজ্জামান আরিয়ান। এতে অভিনয় করেছেন ফারহান জোবান, তাসনুভা তিশা, জেসমিন মৌসুমী, সিনি স্নিগ্ধা, জামিল হোসেন, আনন্দ খালেদ প্রমুখ।

নাটকের গল্পে দেখা যাবে, কনফিউশন নামের একটা শব্দ কিভাবে সুমনকে (ফারহান জোবান) বদলে দিয়েছিল। সুমন এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ছেলে। তার ঘাড়ের ওপর চার লাখ টাকার ঋণ। আর এলাকার সবচেয়ে সুন্দর এবং ধনী পরিবারের মেয়ে হচ্ছে মালা (তাসনুভা তিশা)। সে সুমনকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে কিন্তু তা প্রকাশ করে না।

মালা চায়, সুমন নিজের পায়ে দাঁড়াক এবং জীবনে সফল হয়ে তার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাক। কিন্তু মালা একা চাইলে তো আর হবে না। সুমন আজও অস্কার ভাইয়ের (জামিল হোসেন) কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে এবং লাভ গুরু রইসুদ্দিনের (আনন্দ খালেদ) পরামর্শ নিয়ে চলে। অস্কার ভাই এলাকার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর লোক। এলাকায় ভয় ও উত্তাপ ছড়ানোর জন্য তার নামই যথেষ্ট। কিন্তু অস্কার ভাইয়ের সবচেয়ে দুর্বল পয়েন্ট হচ্ছে মিডিয়া। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেশসেরা নায়ক হবে। তার মতে বাংলাদেশে যদি সত্যিকার অর্থে কেউ অস্কার আনতে পারে সেটা সে নিজেই। অস্কার ভাইয়ের এই দুর্বলতাকে পুজিঁ করে সুমন প্রায় নিয়মিত তার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে চলতে থাকে।

Confused

এলাকার আরেক জনপ্রিয় মানুষ হচ্ছেন রইসুদ্দিন। তাকে এলাকার ছেলেরা লাভ গুরু বলে চেনে। তার পরামর্শ নিয়ে সুমন তার প্রেমকে এখনও টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু মালা (তাসনুভা তিশা) সুমনের এইসব কাহিনী দেখে তাকে আর সময় দিতে চায় না। সুমনের ইচ্ছে সে বড় কিছু হবে। তাই সে এখন বিয়ে করতে চায় না। তখন সুমন মালাকে ভুলতে এক স্টোরে কাজ শুরু করে। সেখানে পায়েলের (জেসমিন মৌসুমী) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কয়েকদিনের পরিচয় ভালো বন্ধুত্বে পরিণত হয়।

এই বন্ধুত্ব এক সময় সুমনের মনে পায়েলের জন্য ভালোবাসার জন্ম দেয়। এক দিন সুমন জানতে পারে পায়েলের বয়ফ্রেন্ড আছে। তখন সুমন আবার সেই চাকরি ছেড়ে অন্য আরেক জায়গায় চাকরি নেয়। সেখানে তার সঙ্গে দেখা হয় সিনি’র (সিনি স্নিগ্ধা)। সিনি কোটিপতি বাপের একমাত্র মেয়ে। মর্ডান মেয়ে। তার কাছে জীবন মানে জাস্ট এনজয়। ধীরে ধীরে সিনির সঙ্গে সুমনের ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। সুমন এবার সিনি’র প্রেমে পড়ে।

যত সময় পার হতে থাকে ততই সুমন বুঝতে পারে, সিনি তাকে শুধু টিস্যু পেপারের মত ব্যবহার করছে। অন্যদিকে মালা এখনও সুমনের জন্য অপেক্ষা করছে। সময় যেভাবে এগোতে থাকে সুমনের সমস্যা তত বাড়তে থাকে। একদিকে মালা তার জন্য অপেক্ষা করছে আর অন্যদিকে সে সিনির কাছ থেকে দূরে যেতে পারছিল না। কারণ, অস্কার ভাইয়ের ৪ লাখ টাকার ঋণ শোধ করতে হলে তাকে সিনি’র কথা মতো চলতে হবে।

এক পর্যায়ে পায়েলও বুঝতে পারে, সুমন তাকে ভালোবেসেছিল। সে সুমনের কাছে ফিরে আসে। তাহলে সুমন কাকে বেছে নেবে? মালা, পায়েল নাকি সিনি! কি পরিণতি হবে সুমনের লাভ স্টোরির! এমন গল্প নিয়েই এগোতে থাকে ‘কনফিউশন’।

নাটকটি প্রযোজনা করেছেন জেনএক্সটি। চিত্রগ্রহণে ছিলেন তানভীর আঞ্জুম।

Share.

Leave A Reply