৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|২২ নভেম্বর, ২০১৭|বুধবার, রাত ১:৩৯

খুদে বিতার্কিকদের প্রাণবন্ত যুক্তিতর্কে মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: শনিবারের সকালটায় কখনো ঝিরঝির, কখনো মুষলধারে বৃষ্টি। সঙ্গে বাতাস। এমন আবহাওয়া উপেক্ষা করেই লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদে জড়ো হতে থাকে জেলার খুদে বিতার্কিকরা। দিনভর যুক্তিতর্কের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসে লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। সব আলো যেন ঠিকরে পড়ছিল আবু সাঈদ শাওনের নেতৃত্বে তিন সামাদিয়ানের মুখে। সামান্য ব্যবধানে রানার্স আপ হয়ে লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা দেখিয়ে দিলো তারাও ছাড় দিতে রাজি নয়। আগামী আয়োজনের জন্য তাই নিজেদের শাণিত করে তুলছে সায়মা’র নেতৃত্বে স্কুলটির ডিবেটিং টিম। দল রানার্স আপ হলেও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সেরা বক্তার পুরস্কারটি নিজের দখলে রেখেছেন দশম শ্রেণির ছাত্রী আফসানা নুর সায়মা।

১১ ও ১২ আগস্ট লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ মনোয়ার স্মৃতি আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও কর্মশালা। শেষ দিন চূড়ান্ত রাউন্ডের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে খুদে বিতার্কিকরা যেন জেলা পরিষদের পুরো হলরুমে এক মুগ্ধতার আবেশ ছড়িয়ে দিয়েছে। পুরো আয়োজনে স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্ষুরধার যুক্তিতর্কে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারকরা। বিটিভিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতার নির্দেশক রোবায়েত রাকিবের বিস্ময়টা যেন একটু বেশিই ছিল। তখনই পাশ থেকে কেউ একজন বলে উঠলেন সামাদের এই টিমই কদিন আগে বিটিভির স্কুল বিতর্কে ঢাকার একটি নামী প্রতিষ্ঠানকে হারিয়ে এসেছে। এরপর থেকে ওদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে আগের চেয়ে আরও হাজার গুণ।

03. 4th Munaowar Memorial Intercultural Debate Competition

পুরো আয়োজনে অংশ নেয় লক্ষ্মীপুরের ১৩টি স্কুলের শখানেক শিক্ষার্থী। বিজয়ী দলের তিন প্রতিযোগী দলনেতা আবু সাঈদ শাওন, রাহীম উল ইসলাম এবং রায়হান ইউসুফ রাফি। রানার্স আপ দলের তিন প্রতিযোগী দলনেতা আফসানা নূর সায়মা, ফাইযানা তুত তাহিরা এবং উপমা নাথ। জমকালো আয়োজনে দ্যুতি ছড়িয়েছেন রুবাইয়াৎ রাকিব আর রাইসুল ইসলামের মতো খ্যাতনামা বিতার্কিকরা। পুরো আয়োজনের মধ্যমণি ছিলেন লক্ষ্মীপুর ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা মাজেদ আজাদ। মূলত তার হাত ধরেই লক্ষ্মীপুরে বিতর্ক চর্চা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।

কয়েক রাউন্ডের বিতর্কে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল, ‘গণমাধ্যম গণমানুষের কথা বলে, দারিদ্র্য নয় অসচেতনতাই বাল্য বিবাহের প্রধান কারণ, ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে পরিবারের ভূমিকাই প্রধান।’

04. 4th Munaowar Memorial Intercultural Debate Competition

মনোয়ার স্মৃতি আন্তঃস্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও কর্মশালার প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে। ক্ষুদে মেধাবী বিতার্কিক মোহাম্মদ মনোয়ার উদ্দিন-এর স্মরণে এই নামকরণ করা হয়। লক্ষ্মীপুরের ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের এই মেধাবী বিতার্কিক ২০০৪ সালের ৩০ নভেম্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। লক্ষ্মীপুর ডিবেট অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি মাজেদ আজাদ বলেন, মনোয়ারের মতো স্কুলপড়ুয়া একজন শিশু উদার, অসাম্প্রদায়িক, গণতন্ত্রমনা ও যুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্নকে ধারণ করতো। এমন স্বপ্নচারী শিশুদের নিয়ে আমরা কাজ করে যেতে চাই। আর তাই শৈশব থেকেই তাদের যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের এই প্রচেষ্টা।

Share.

Leave A Reply