শুভ জন্মদিন চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল-এর জন্মদিন ১৮ আগস্ট। শুভ জন্মদিন চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল। ১৯৮৭ সালের এই দিনে তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরনবী চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করা এক তুখোড় রাজনীতিক। আওয়ামী পরিবারের সন্তান মা মরিয়ম বেগম একজন গৃহিনী।

চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেলের শিক্ষাজীবন শুরু হয় লক্ষ্মীপুর পৌর কিন্ডারগার্টেনে। সেখানে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত না থাকায় চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন এন আহমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন লক্ষ্মীপুর টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেলের কাছে স্কুল পরিবর্তন করা ছিল একটা মজার বিষয়। নতুন স্কুল মানেই নতুন বন্ধুবান্ধব। ছোটবেলা থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে পছন্দ করেন।

02. Chowdhury Shohel

লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর ভর্তি হন রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন কলেজে। এক পর্যায়ে অসুস্থতার কারণে সেখানে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরে দালালবাজার ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এইচএসসি’র পর ভর্তি হন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-তে। সেখান থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক সম্পন্ন করেন।

স্কুল পর্যায় থেকেই বিভিন্ন সময়ে স্কাউট, বিএনসিসি, লক্ষ্মীপুর ডিবেট অ্যাসোসিয়েশন-সহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গতানুগতিক ছাত্র রাজনীতির বাইরে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সবসময়ই সামনের সারিতে উপস্থিতি ছিল তার। ২০১৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’র ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে রাজপথে নামে শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে এআইইউবি’র ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল। এ আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় এআইইউবি কর্তৃপক্ষ। ১০ জনকে দুই সেমিস্টার এবং দুইজনকে দুই সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। ওই দুইজনের একজন চৌধুরী সোহেল।

03. Chowdhury Shohel

রাজনীতিক পরিবারের সন্তান চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল। লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি এক অপার আস্থার নাম। উদারমনা, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাবার কাছ থেকে শিখেছেন কিভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে তাদের হৃদয় জয় করা যায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয়ে বাবার হাত ধরে যুক্ত হন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে।

২০০৪ সালে ৫ নং ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হন। এরপর যুক্ত হন লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রলীগের সঙ্গে। ২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নতুন উদ্দীপনায় জেলা ছাত্রলীগের পুনর্গঠনে মনোযোগী হন। উদ্যোগী হন প্রতিহিংসার রাজনীতির বাইরে দেশ ও জাতির স্বার্থে ছাত্রসমাজকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত করতে।

04. Chowdhury Shohel

হাজারো কর্মী গড়ার কারিগর চৌধুরী সোহেল শুধু জেলা ছাত্রলীগকে শুধু সাংগঠনিক কাজেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। এর বাইরে কর্মীদের যুক্ত করেছেন সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে রায়পুরের চর বংশী ইউনিয়নে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি সাঁকো তৈরি করেন। এই একটি সাঁকোর অভাবে হাজারো শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়া বিঘ্নিত হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে তাদের স্কুলে যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যেতো। চৌধুরী সোহেলের উদ্যোগে সাঁকোটি নির্মাণের ফলে উপকৃত হচ্ছেন ওই এলাকার প্রায ৩০ হাজার মানুষ।

২০১৬ সালের ২৪ মার্চ ‘ছেলের সামনে মাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন’ শিরোনামে সংবাদমাধ্যমে একটি খবর প্রকাশিত হয়। খবর পেয়ে ওই মমতাময়ী মায়ের কাছে ছুটে যান চৌধুরী সোহেল। দলীয় কর্মীদের নিয়ে তার পাশে দাঁড়ান। ঘোষণা দেন এই নির্যাতিত মা এবং তার পুত্রের দায়িত্ব নেবে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগ। তাদের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানান সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নূরজাহান মুক্তা। এই পরিবারের প্রতি ছাত্রলীগের আর্থিক সহায়তা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

05. Chowdhury Shohel

২০১৬ সালের বন্যায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে রামগতির দুর্গত মানুষের সহায়তায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন চৌধুরী সোহেল। প্রতি বর্ষায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে স্কুলে স্কুলে বৃক্ষরোপণ অভিযানে অংশ নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্থানে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ের ৩০ হাজার কপি বিতরণ করেন। চৌধুরী সোহেলের নেতৃত্বে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগ বাংলাদেশে ছাত্রলীগের একমাত্র ইউনিট যারা রুটিন সাংগঠনিক কাজের বাইরে এভাবে গণমুখী কর্মকাণ্ডে আত্মনিয়োগ করেছে। ২০১৭ সালের মে মাসে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় লক্ষ্মীপুর জেলা শাখাকে সংগঠনের সেরা ইউনিট ঘোষণা করা হয়।

স্কুল জীবন থেকেই বন্ধু মহলে দক্ষ সংগঠক হিসেবে সোহেলের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ২০০২ সালে লক্ষ্মীপুর শহরের সমমনা বন্ধুদের নিয়ে তৈরি করেন স্টুডেন্টস কোলাবরেট কমিটি নামের একটি সংগঠন। এর সদস্যরা নিজেরা মাসিক চাঁদা তুলে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। সমাজে সংঘটিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলে। পারিবারিক মূল্যবোধের বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন করে তুলতে মা দিবস, বাবা দিবস-এর মতো বিভিন্ন দিবসে ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্টুডেন্টস কোলাবরেট কমিটি।

06. Chowdhury Shohel

খেলাধূলার প্রতি বরাবরই আগ্রহী চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল। বন্ধুরা মিলে তৈরি করেন ফায়ার সার্ভিস ক্রীড়া চক্র। স্থানীয় পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে এখনো এ টিমের কার্যক্রম বিদ্যমান। এছাড়া বাগবাড়ি ক্লাবের হয়ে তিনি ন্যাশনাল লিগেও অংশ নিয়েছেন।

এইচএসসি’র পর পড়াশুনার জন্য লক্ষ্মীপুর ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি দেন চৌধুরী সোহেল। সেখানে দেখতে পান ঢাকায় লক্ষ্মীপুরের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে। চিন্তা করলেন ঢাকা শহরে নতুন আসা শিক্ষার্থীদের কিভাবে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, থাকার ব্যবস্থাসহ আনুষঙ্গিক সহায়তা করা যায়। কিভাবে এই তরুণদের নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। এমন চিন্তা থেকে ২০০৮ সালে গঠন করেন ‘লক্ষ্মীপুর অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্রেন্ডস ফরএভার’ (ল্যাফ)। প্রাথমিকভাবে ৩০ জনকে নিয়ে শুরু করা এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বর্তমানে অর্ধসহস্রাধিক। নিজেদের কার্যক্রম দিয়ে ঢাকাস্থ লক্ষ্মীপুরের শিক্ষার্থীদের কাছে এক অনন্য প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে ল্যাফ। ল্যাফের প্রতিষ্ঠালগ্নে চৌধুরী সোহেলের সঙ্গে একনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন বন্ধু ফায়জুল আজিম পাভেল, কামরুল হোসেন, ইশতিয়াক মনজু প্রমুখ।

07. Chowdhury Shohel

লক্ষ্মীপুরের দত্তপাড়া ইউনিয়নে গাইনি রোগের ওপর সংগঠনটির ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের সুফল পেয়েছেন গ্রামের অবহেলিত নারীরা। লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. এএসএম মাকসুদ কামাল ল্যাফের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। তার উৎসাহ ও পরামর্শ ল্যাফের পথচলাকে আরও মসৃণ করেছে।

রাজনীতি আর সমাজসেবার বাইরে লেখালেখি করতে পছন্দ করেন চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল। সুযোগ পেলেই বসে যান কাগজ-কলম নিয়ে। কলাম লেখেন সমসাময়িক রাজনীতি আর জাতীয় নানা ইস্যু নিয়ে। বিবার্তা ২৪-এ প্রকাশিত জঙ্গিবাদ নিয়ে তার একটি কলাম সাড়া ফেলেছে। ‘দেশপ্রেমে গড়ে উঠুক আমাদের হৃদয়’ শিরোনামের ওই লেখায় তিনি তুলে ধরেছেন কিভাবে তরুণদের মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে ভুল পথে চালিত করা হয়। তার আলোচিত কলামগুলোর মধ্যে রয়েছে- দশ টাকায় চাল আর পাকিস্তানকে ‘না’, বেঁচে যাওয়াই ছিল তুহিনের অপরাধ।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রিয় নেতার কাছে একটি খোলা চিঠি লেখেন চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল। শিরোনাম ‘স্বর্ণঈগল চোখে তাকিয়ে আছি নেতার পানে’। ওই চিঠিতে প্রিয় নেতার কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন এই তরুণ তুর্কি। আবেগঘন চিঠিতে তিনি জানাতে চেয়েছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মূল্যায়ন করেছেন, তার প্রতিদান বৃহত্তর নোয়াখালীর গর্বিত সন্তান ওবায়দুল কাদের নেতৃত্বের যোগ্যতাবলে দিতে পারবেন।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমি জামাত-বিএনপির অঞ্চলের ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে বেড়ে উঠতে চাই না। আমিও বলতে চাই আমি বঙ্গবন্ধুর ঘাঁটি শেখ হাসিনার মাটির ছাত্রলীগের গর্বিত কর্মী। আমরাও পারি প্রিয় নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী রাখতে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করে নৌকার প্রতীককে বিজয়ী করতে।”

দ্য ঢাকা রিপোর্টের কাছ থেকে চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনার প্রিয় নায়ক কে? উত্তরে খুব সাবলীলভাবে বললেন, আমার নায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল দ্য ঢাকা রিপোর্টকে জানান, তার প্রিয় রঙ লাল-সবুজ। প্রিয় খাবার ইলিশ-পান্তা, ডিম ভাজি। প্রিয় ফল আম। রুচিশীল যে কোনও পোশাকেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যে কোনও উৎসব বা সাংগঠনিক প্রোগ্রামে সাধারণত পাঞ্জাবি পরেন। প্রিয় ঋতু বর্ষা।

চার ভাই এক বোনের মধ্যে চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল তৃতীয়। বড় ভাই অ্যাডভোকেট আরিফুন্নবী চৌধুরী রাসেল লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টে প্র্যাকটিস করছেন। বোন তাহমিনা আক্তার পিনু স্বামী-সন্তানসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ভাই শরিফুন্নবী চৌধুরী ফয়সল প্রাইম ব্যাংকে কর্মরত। ছোট ভাই কামরুন্নবী চৌধুরী জুয়েল সম্প্রতি ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।

জন্মদিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল দ্য ঢাকা রিপোর্টকে বলেন, শোকের মাস আগস্ট। তাই জন্মদিন নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে চেষ্টা করবো দিনটি পথশিশু ও হতদরিদ্রদের সঙ্গে কাটাতে।

ভিডিও

বিভাগ:জন্মদিন
Share.

Leave A Reply