৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|২২ নভেম্বর, ২০১৭|বুধবার, রাত ১:৩৯

রোহিঙ্গা গণহত্যায় দুনিয়াজুড়ে প্রতিবাদের মুখে সু চি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: বার্মা’র আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন দেশটির নেত্রী অং সান সু চি। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সরকারের জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় এরইমধ্যে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। উদ্ভূত প্রেক্ষাপটে বার্মার ‘গণতন্ত্রকামী নেত্রী ও মানবাধিকারের চ্যাম্পিয়ন’ বলে পরিচিত অং সান সু চি’র নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলছেন অনেকে।

বার্মিজ সরকারের সমালোচনা করছে তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের মতো মুসলিম দেশগুলো। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকার গণহত্যা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি’কে ফোন করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এ সময় তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তাদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলায় তুরস্ক এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ক্ষুব্ধ ও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এক টুইটে বলেছেন, রোহিঙ্গারা ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। মধ্য এশিয়ার কিরগিজস্তান মিয়ানমারের সঙ্গে এশিয়া কাপে বাছাই পর্বের ম্যাচ বাতিল করেছে। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে সোমবার রাশিয়ার চেচনিয়াতে বড় ধরনের একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় মিয়ানমার দূতাবাসে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। বর্মী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক চ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে মালদ্বীপ।

সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নিপীড়ন সু চি’র দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশটির নেতা সু চি চলমান সহিংসতা বন্ধ করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করবেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বার্মার সেনাবাহিনীকে সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্মায় জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ইয়াঙ্গি লি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের সুরক্ষা দিতে না পারায় সু চি’র সমালোচনা করেছেন। তিনি রাখাইনের পরিস্থিতিকে গভীর উদ্বেগজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি ভয়াবহ উল্লেখ লি বলেছেন, কার্যত সরকার প্রধানের দায়িত্বে থাকা সু চি’র হস্তক্ষেপের সময় এসেছে। যে কোনও সরকারের কাছে প্রত্যাশা, তাদের এলাকায় যেন সবাই সুরক্ষিত থাকে।

Share.

Leave A Reply