৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|২২ নভেম্বর, ২০১৭|বুধবার, রাত ১:৩৯

মার্কিন মন্ত্রীকে রোহিঙ্গা এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না: বার্মা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিক মার্ফি আগামী সপ্তাহে বার্মা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে শুক্রবার বার্মিজ কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাকে রোহিঙ্গা এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

বার্মার কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রাজধানী নেপিডো’তে দেশটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন প্যাট্রিক মার্ফি। মঙ্গলবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া সু চি’র ভাষণও তিনি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন।

রাখাইনের রাজ্যসচিব টিন মং সুই রয়টার্স’কে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিটওয়ে-তে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সেখানে তিনি রাখাইনের গভর্নর ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে তাকে রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যেতে দেওয়া হবে না।

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার বার্মার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জাও হাতা জানান, তার দেশের ১৭৬টি রোহিঙ্গা গ্রাম এখন পুরোপুরি জনশূন্য। এসব গ্রাম ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেছেন। এটা বার্মার মোট রোহিঙ্গা গ্রামের ৪০ শতাংশ। এছাড়া অন্তত ৩৪টি গ্রাম প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

চলতি বছরের আগস্টে ৪৭১টি রোহিঙ্গা গ্রামকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন্স’ শুরু করে বর্মী সেনারা। এর মধ্যে ১৭৬টি গ্রামেই এখন আর কোনও রোহিঙ্গার অস্তিত্ব নেই। সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে এদের অধিকাংশই বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। লোকচক্ষুর অন্তরালে বন-জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকে।
বার্মায় এখনও রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থীদের অগ্নিসংযোগ অব্যাহত রয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যান বাংলাদেশে কর্মরত ৪০টি দেশের কূটনীতিকরা। এ সময় তারা নাফ নদীর ওপারে বার্মার গ্রামগুলো আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর উদ্যোগে ৪০টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যান। দুপুর দেড়টার দিকে কূটনীতিকরা যখন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ শেষ করে গাড়িতে উঠছিলেন ঠিক তখনই নাফ নদীর ওপারে বার্মার সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় ও ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে কূটনীতিকদের গাড়ি বহর থামিয়ে তাদেরকে এ দৃশ্য দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতি চাক্ষুষ দেখে অবাক ও হতভম্ব হয়ে পড়েন তারা। সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনেককেই এ দৃশ্যের ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে দেখা যায়। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, আল জাজিরা, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

Share.

Leave A Reply