যেভাবে এল স্যান্ডউইচ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: দুই ফালি রুটির মধ্যে গোশত কিংবা সবজি দিয়ে তৈরি খাবারের নাম স্যান্ডউইচ। এই খাবার দুনিয়াজুড়ে কতটা জনপ্রিয়, তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিসংখ্যানে চোখ বোলালেই অনুমান করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক বছরে গড়ে ২০০টি স্যান্ডউইচ খান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে খাবারটি তুমুল জনপ্রিয় হলেও এর উৎপত্তি কিন্তু সে দেশে নয়। গবেষকদের মতে, পশ্চিমাদের মধ্যে স্যান্ডউইচ পরিচিত করেন যুক্তরাজ্যের জন মন্টাগু। সেটা ১৭৬২ সালের কথা। জন মন্টাগুর ছিল অত্যধিক জুয়াপ্রীতি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি জুয়া খেলে কাটাতেন। টানা জুয়া খেলার মধ্যে যেন খাবারের জন্য কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, তাই তিনি তাঁর বাবুর্চিকে এমন একটি খাবার বানাতে বলেন যা খেলে ক্ষুধাও মেটে আবার জুয়ার আসরে বসেই খেয়ে নেওয়া যায়। এভাবেই জন মন্টাগুর বাড়ির রান্নাঘর থেকে পশ্চিমে পরিচিতি পায় স্যান্ডউইচ, আর এর নামকরণও হয় জন মন্টাগুদের পারিবারিক উপাধির নামে।

জন মন্টাগুই স্যান্ডউইচের উদ্ভাবক, এ কথা হলফ করে বলা যাবে না। গবেষকদের মতে, জন মন্টাগু এ ধরনের খাবারের ধারণা পেয়েছিলেন ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা ভ্রমণের সময়, যেখানে তুর্কি আর গ্রিকদের তৈরি দুটি রুটির মধ্যে মাংস, পনির ইত্যাদি দিয়ে এই জাতীয় খাবার পরিবেশন করা হতো। অর্থাৎ তুরস্কে বহু আগে থেকেই স্যান্ডউইচের প্রচলন ছিল।

আর যুক্তরাষ্ট্রে স্যান্ডউইচ পৌঁছায় ঊনবিংশশতকে। ১৮১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত খাবারবিষয়ক একটি বইয়ে প্রথম স্যান্ডউইচের রন্ধনপ্রণালির উপস্থিতি পাওয়া যায়। মূলত ঊনবিংশ থেকে বিংশ শতকের মধ্যে পুরো পৃথিবীতেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে স্যান্ডউইচ। জন মন্টাগুর জুয়ার আসর থেকে তা পৌঁছে যায় রেস্তোরাঁর টেবিলে টেবিলে। হিস্ট্রি ডটকম অবলম্বনে আকিব মো. সাতিল।

Share.

Leave A Reply