কর্মব্যস্ত মানুষের গন্তব্য ও গণপরিবহন!

উম্মে রাহা নূর, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: ঢাকা একটি ব্যস্ত শহর। এখানে দিন শুরু হয় কর্মক্ষেত্রের দিকে ছুটে চলা মানুষের ব্যস্ততায়। যথাসময়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর ব্যস্ততা শিক্ষার্থীদের। আর দিনশেষে ক্লান্ত শরীরে সবাই বাসায় পথ ধরা আমাদের নিত্যদিনের রুটিন। আমাদের চলাফেরা পাবলিক বা সিটিং নামক বাসে। পাবলিক বাসগুলোতে এতো বেশি যাত্রী থাকে যে, তাতে কোনোরকমে দাঁড়ানোটাই কষ্টকর।

এই কষ্টের অভিজ্ঞতা কিন্তু আপনার-আমার সবারই। দুইমাস আগেও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী পদক্ষেপ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। সিটিং সার্ভিসগুলোর মালিক দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা। সংগত কারণেই তারা খুব প্রভাবশালী হওয়ায় চাইলেই এটা বন্ধ করে দেওয়া সরকারের জন্য একটা কঠিন কাজ। সিটিং সার্ভিস বন্ধ করতে হলে সরকারকে প্রথমে রাস্তায় জনগণের চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন নামাতে হবে। সেটা করা সম্ভব হলে বেসরকারি মালিকানায় থাকা বাসগুলোর নৈরাজ্য কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

বাসে কিছু ‘ছোটলোক’ উঠে থাকে। এরা কালেভদ্রে যখনই সিট পায় তখনই পার্ট নেয়, “ওই দাঁড়াইয়া লোক নিবি না।” তাদের নিজের ভাড়া কম দেওয়ার বাহানাটা এমন- “সিটিং বাস তুমি আউট লোক তুলছ কেন? ওই তরে ভাড়া দিবো না। হাফ দিবো ইত্যাদি ইত্যাদি।”

এমন করে হেলপারদের গালমন্দ করতে থাকার এক পর্যায়ে ড্রাইভার বিগড়ে যায়। তখন সে গাড়ি দ্রুত টেনে চলে। এতে করে কখনো আবার অন্য গাড়ির ধাক্কা লাগে তার গাড়িতে। হেল্পার বলে উঠে, “ওস্তাদ টান দেন। টাকা পাবে মালিক, গাল খাব আমি, তা হবে না। দেন টান।”

একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করি, মালিবাগ কমিনিউটি সেন্টারের সামনে অনাবিল বাসের অপেক্ষায় দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছি। কোন বাসই তুলছে না। সিটিং সার্ভিসের দোহাই দিয়ে বাস সেকেন্ডের মধ্যেই যাত্রী নামিয়ে আবার টান দিচ্ছে। অন্য যাত্রী উঠার সুযোগ দিচ্ছে না। এক পর্যায়ে আরেকটি অনাবিল বাস একই কাজ করতে গেলে ষাটোর্ধ্ব একজন বৃদ্ধ ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। গাড়ি যাত্রী না উঠানোর জন্য তাড়াহুড়া করতে গিয়ে এতোটা দ্রুতগুতিতে টান দেয় যে, চোখের সামনেই জীবন্ত মানুষটা লাশ হয়ে গেলেন! এটা কিভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব! ওই জায়গায় আপনি-আমি বা আমার-আপনার পরিবারও থাকতে পারতো।

সময় এখন নেটওয়ার্কিং-এর। সব বয়সী মানুষের একটা সাধারণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেসবুক বা টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো। শুধু চ্যাটিং বা চটকদার পোস্টে আবদ্ধ না থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও আমরা নানা ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিতে পারি। আওয়াজ তুলতে পারি গণপরিবহনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে; যেগুলো প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে এই শহরের কোটি মানুষকে।

আসুন নিজেকে পরিবর্তন করতে শিখি। আপনার উদার মানবিকতায় হয়তো সমাজ ভালো কিছু পাবে। মানুষ একটা পরিচ্ছন্ন, সুস্থ সমাজ পাবে। আপনি নিজে সচেতন হোন, পরিবার সদস্যদের সচেতন করুন, বন্ধুদের বলুন। এভাবেই ধীরে ধীরে এক সময় বদলে যাবে সমাজ, সংস্কৃতি, দৈনন্দিন লাইফস্টাইলের বাজে দিকগুলো। এই প্রজন্মের কাছে; আপনার-আমার কাছে সেই আশা এই রাষ্ট্র করতেই পারে। কারণ আমাদের ওপরই নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

বিভাগ:কলাম
Share.

Leave A Reply