৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|২২ নভেম্বর, ২০১৭|বুধবার, রাত ১:৩৩

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘পাখি দিয়ে পোকা নিধন’ প্রযুক্তি

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: ফসলের ক্ষেতের মাঝে বড় বড় আফ্রিকান ধৈঞ্চা গাছ। কিছুক্ষণ পর পর গাছগুলোর ওপর উড়ে এসে বসছে বিভিন্ন ধরনের পাখি। এরপর এসব পাখি ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকাগুলো ধরে ধরে খাচ্ছে। এভাবে কীটনাশক ছাড়া সহজেই দমন হচ্ছে পোকা। এ পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি দমন হয় মাজরা পোকা। একইসঙ্গে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশও।

আফ্রিকান ধৈঞ্চা গাছ লাগিয়ে পাখি দিয়ে ক্ষেতের পোকা দমনের এই পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির নাম লাইভ পার্চিং। পাখি বসে এমন উঁচু ডাল বা খুঁটির নাম পার্চ। আর পার্চ থেকেই পার্চিং নামের উদ্ভব। দিন দিন ফসলের মাঠে এই জৈবপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ধৈঞ্চা গাছের শিকড়ে বিশেষ এক ধরনের উপাদান থাকে, যা সার ছাড়াই জমিতে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে। এতে ফসলের উৎপাদনও ভালো হয়।

দেখুন ভিডিওতে:

নওগাঁর রাণীনগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খরিপ-১ মৌসুমে উপজেলায় ছয় হাজার সাতশ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করা হচ্ছে। এসব জমিতে আফ্রিকান ধৈঞ্চা গাছ লাগিয়ে পাখি দিয়ে পোকা নিধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ধৈঞ্চা গাছে পাখি বসে ক্ষেতের মাজরা পোকাসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলে। ফলে কীটনাশক দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বিঘা প্রতি চার/পাঁচটি এবং একর প্রতি ১৩-১৪টি ধৈঞ্চা গাছ লাগিয়ে পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করা যায় ধানক্ষেত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবছর রাণীনগরে লাইভ পার্চিংয়ের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। উপজেলার কৃষকদের অনেকেই এখন এ পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন। তাই এখানকার বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের মাঠজুড়ে দেখা মিলছে লাইভ পার্চিংয়ের। শুধু পোকা নিধনই নয়; লাইভ পার্চিংয়ে ব্যবহৃত ধৈঞ্চার গাছের দেহে ও শিকড়ে বড় বড় নডিউল থাকে। নডিউলে রাইজোরিয়াম ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা প্রকৃতির বাতাস থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে। আবাদের পর জমি চাষের সময় এই ধৈঞ্চাগুলো জমিতে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে। তাই আলাদা করে আর জমিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করতে হয় না।

উপজেলার কালিকগ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার জানান, এই মৌসুমে তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে রোপা আমন আবাদ করেছেন। পাঁচ বিঘা জমিতে ৪০টি ধৈঞ্চা গাছ লাগানোর কারণে পোকামাকড় দমন হচ্ছে। এছাড়াও জমিতে যোগ হচ্ছে নাইট্রোজেন। শুরুতে একবার কীটনাশক স্প্রে করার পর আর কীটনাশকের প্রয়োজন হয়নি। দিতে হচ্ছে না ইউরিয়া সারও।

উপজেলার বড়গাছা গ্রামের কৃষক এখলাস আলী বলেন, ‘ধৈঞ্চা গাছের ডালে পাখিরা বসে ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। গাছটির পাতা জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ক্ষেতে আর ইউরিয়ার ব্যবহার প্রয়োজন হয় না।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে রাণীনগরে পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কৃষকদের মধ্যে। তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে, আফ্রিকান ধৈঞ্চা গাছ ভালো উপকার করছে।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ধৈঞ্চার পুরো গাছে নডিউল রয়েছে, যা বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে, এতে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।’

উপজেলা কৃষি অফিসার এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, কৃষি বিভাগ কৃষকদের এই পদ্ধতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছে। বরেন্দ্র ভূমিখ্যাত এ উপজেলার ফসরের ক্ষেতগুলো আগামীতে পার্চিং পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদারকি এবং পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কার্টিসি: বাংলা ট্রিবিউন।

Share.

Leave A Reply