৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|২২ নভেম্বর, ২০১৭|বুধবার, রাত ১:৩৪

বারান্দায় একচিলতে বাগান

লাইফস্টাইল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: অথচ এমন আবেশে সুবাসিত হওয়ার দিনগুলোকে নিজের সুখ-কল্পনায়ই আবদ্ধ করে রেখেছেন অনেক শহরবাসী, এত শত ব্যস্ততার মাঝে শখের বাগান করার অবসর কোথায় পাবেন তারা? তবু কিন্তু দেখা যায়, কেউ কেউ আছেন যারা সব ব্যস্ততার ফাঁক গলে, ঘরের কোণের এক টুকরো বারান্দার মধ্যেই তৈরি করে নিয়েছেন নিজের মনের মতো সবুজের স্বর্গ। সময় আর স্থানের প্রতিবন্ধকতাকে তাদের মতো করে দূর করে নিতে পারবেন আপনিও। এর জন্য শুধু কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে সচেতন হয়ে সঠিক সিদ্ধান্তটা নিলেই হয়। কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিয়ে কাজে নেমে যাওয়াটাই শুধু বাকি থাকে।

কেমন আলো পায় আপনার বারান্দা?

বারান্দায় বাগান তৈরি করতে হলে প্রথমেই যেটি বুঝে নেয়া বেশ জরুরি তা হলো, কী পরিমাণ আলো আপনার বারন্দাটি পাচ্ছে। কেউ কেউ কম বা বেশি আলোয় গাছ বাঁচবে কিনা, এ চিন্তায়ই বাগানের সাধ নিয়ে বাস্তবে আর এগোন না। অথচ সব ধরনের আলোয় লাগানোর জন্য আলাদা আলাদা গাছ রয়েছে। সেইমতো বুঝে গাছ লাগানো হলে কিন্তু খুব বেশি যত্ন ছাড়াও গাছ বেড়ে ওঠে নিজের ছন্দে। যেমন খুব বেশি সূর্যের আলো এসে পড়ে বারান্দার যে কোণে, সেখানে আপনি লাগাতে পারেন রসাল তৃণজাতীয় গাছগুলো। মর্নিং গ্লোরি, স্ট্রবেরি, লেটুস, ল্যাভেন্ডার ফুলের গাছ বা ভুঁই-তুলসী ধরনের গাছগুলো এমন জায়গার জন্য একদম যথাযথ হবে। অন্যদিকে যে বারান্দার কোণটি একটু ছায়ায় ঘেরা, সে বারান্দায় নিয়ে আসা যায় রোজমেরি, ইংলিশ আইভি, পিস লিলি, বেগনিয়া ও নানা জাতের ফার্ন গাছ।

কেমন টব হবে মানানসই?

বারান্দার আকারের ওপর নির্ভর করে যে টবগুলো বসাবেন, তার আকারও বুঝে নিতে হবে। ছোট আকারের বারান্দাগুলোর জন্য ছোট আকারের অনেকগুলো টবের কথা ভাবতে হয়। এতে সেই বারান্দার গোটা জায়গারই ভালো ব্যবহার করা সম্ভব। তাছাড়া ঝুলিয়ে রাখা যায় যে গাছের টবগুলোকে, সেগুলোও অমন বারন্দায় বেশ মানিয়ে যায়। আর বড় বারান্দার জন্য বড় বড় টব থেকে শুরু করে চাইলে সুন্দর নকশার টবের স্ট্যান্ডগুলোর কথাও ভাবা যায়।

কোন গাছগুলো লাগাবেন?

পারিপার্শ্বিক অবস্থাভেদে নানা ধরনের গাছ লাগানোর কথা ভাবতে তো হবেই, সঙ্গে মনোযোগ দিতে হবে গাছের আকার-আকৃতির দিকেও। একেক গাছের উচ্চতা হয় একেক রকম, আবার কোনো কোনো গাছ অন্যগুলোর চেয়ে বেশি ঝোপঝাড়পূর্ণ হয়। ছোট বারান্দার দেয়ালকে আরো মনোরম করে তোলা যায় লতানো ফুলের গাছগুলো লাগিয়ে। ফার্ন বা ঔষধি-জাতীয় গাছগুলো কম যত্নেই বেশ বেড়ে উঠতে পারে। তাই ছোট বারান্দায় ঝামেলা এড়াতে এ ধরনের গাছ দিয়ে সাজানোর চিন্তা ভালো ফলই বয়ে আনবে। বড় বারান্দায় তো টমেটো, বেগুন বা আলুজাতীয় সবজির গাছ পর্যন্ত লাগিয়ে ফেলা যায়। যদি কিছুটা সময় হাতে পাওয়া যায় বাগানের পেছনে ব্যয় করার জন্য, তাহলে এমন একটা বাগান আপনাকে এনে দেবে নির্মল আনন্দ।

কীভাবে মনের মতো সাজাবেন বাগানকে?

যদি বাগানকে সাজানো যায় মনের মতো বাড়তি কিছু শৈল্পিক উপাদান দিয়ে, তবে সুনিশ্চিতভাবেই এটি আরো বেশি ভালো লাগায় পূর্ণ করে দেবে মনকে। তবে এ সময়ের ছোট আকারের বারান্দাগুলোয় এসবের জন্য স্থানসংকুলান করাটাই অনেক বড় একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য এটি খানিকটা সৃজনশীলভাবে আগানো যেতে পারে। অনেক দোকানেই বাগান সাজানোর জন্য একদমই ছোটখাটো, অথচ মনকাড়া সব খুচরা জিনিস পাওয়া যায়। যেমন নানা ধরনের ঝুলিয়ে রাখার বাতি, রঙবেরঙের পাথর, উইন্ড চাইম অথবা একদমই আলাদা নকশার গাছ লাগানোর পাত্র। এগুলো কিনে বসিয়ে দিতে পারেন আপনার বারান্দায় গড়ে ওঠা বাগানের নানা কোণে। এতে এর সৌন্দর্য বেড়ে যাবে বহু মাত্রায়।

Share.

Leave A Reply