৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|২২ নভেম্বর, ২০১৭|বুধবার, রাত ১:৩৩

সৌরভে, নন্দনে বাহারি ফুল

লাইফস্টাইল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: সৌন্দর্যপিপাসু হৃদয়ে যখন শিল্পীর প্রত্যাশা স্থান করে নেয়, তখন তার গৃহকোণে ছোঁয়া লাগে নান্দনিকতার। রঙে, বিন্যাসে, আসবাবে আর হোম অ্যাকসেসরিজে আসে ভিন্নতা। কখনো কখনো ঋতুর পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে নিজ অঙ্গনে সবুজ প্রকৃতিকেও হাজির করতে চায় সে হৃদয়। সে পথপরিক্রমায় এবার না হয় প্রকৃতিই অতিথি হয়ে এলো ঘরে।

ঘরে ঢোকার প্রবেশমুখে মাটির পাত্রে ভাসিয়ে দিন শাপলার কলি। সন্ধ্যে নাগাদ সবুজের পটভূমিতে পূর্ণ যৌবনা শাপলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যে জুড়াবে চোখজোড়া। পাত্রটির চারপাশে পছন্দের আরো কিছু ইনডোর প্লান্ট ছড়িয়ে দিন। আর সেগুলোকে হাইলাইট করুন নানা রঙের আলোয়। খুব জাঁকজমক কিছু নয়, তবে এর স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের সঙ্গে বাড়তি পাওনা হিসেবে যোগ হবে বৃষ্টিভেজা আনন্দ। শুধু এনট্রান্সে নয়, বসার ঘরের যেকোনো কোণেও মানিয়ে যাবে শাপলা ফুলের এ সাজ।

ফুলদানিতে সাজিয়ে নেওয়া ফুলগুলোর মধ্যে রজনীগন্ধা বরাবরই প্রথম সারিতে। অন্দরে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে এর আবেদন চিরায়ত। রজনীগন্ধার লম্বা স্টিকগুলো সাজিয়ে রাখতে বসার ঘরের কোণই হচ্ছে আদর্শ জায়গা। একটা সময় সেন্টারপিস হিসেবে রজনীগন্ধা ব্যবহার হতো। তবে এ সময়ে এর উপস্থাপনে এসেছে নতুনত্ব। একটা ফুলদানিতে গাদাগাদি করে না রেখে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সাইজ ও শেপের পটারিতে রজনীগন্ধা সাজিয়ে নিন। জায়গা যদি না থাকে, তবে একটি পটারিতেই ছোট-বড় করে কয়েকটি রজনীগন্ধা স্টিক সাজিয়ে নিলে মন্দ লাগবে না!

কানাডা প্রবাসী ডেন্টিস্ট মাসুমা চৌধুরী শীতলের পরামর্শ, একগুচ্ছ নয়, ঘরের প্রতিটি কোণ সাজিয়ে নিন সতেজ ফুলে ফুলে। দিন শেষে ক্লান্ত দেহে যে ঘরে শান্তির খোঁজ করা, সেই শোয়ার ঘরের শোভা বাড়িয়ে নিন শুভ্র সাদা পাপড়ির দোলনচাঁপায়। ফুলের স্নিগ্ধ সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে যাবে, যদি তা সাজিয়ে রাখা হয় লম্বা বা ওভাল শেপের ক্রিস্টাল কোনো ফ্লাওয়ার ভাসে। দেখবেন এর রূপ, রঙ মনে বুলিয়ে দেবে শান্তির পরশ; ঘরকে করবে সুবাসিত। চাইলে অর্কিডও ঝুলিয়ে দেয়া যেতে পারে শোয়ার ঘরের জানালায় কিংবা দেয়ালে। এর একটি বাড়তি সুবিধাও আছে, অর্কিড অনেক দিন পর্যন্ত সতেজ থাকে।

খাবার টেবিলের ঠিক মধ্যখানে একটু ইকেবানা স্টাইলে সাজানো রঙ্গন অনেক বেশি মানানসই। ফুলের সৌন্দর্য আরো জীবন্তভাবে উপস্থাপনের এ কৌশলের অংশ হিসেবে রঙ্গনের সঙ্গে যোগ করুন কয়েকটা সবুজ পাতা কিংবা ডাল। একইভাবে বসার ঘরের কোনো একটি কোণ কিংবা শোয়ার ঘরের সাইড টেবিলও সাজিয়ে নেয়া যেতে পারে রঙ্গন ফুলে।

গোলাপ, বছরজুড়ে এর প্রাচুর্য থাকলেও বৃষ্টিস্নাত গোলাপের সৌন্দর্য যেন মানুষকে আরো বেশি আবেগি করে তোলে। স্বচ্ছ কাচের ফ্লাওয়ার ভাজে একগুচ্ছ গোলাপের সৌন্দর্যের কাছে হার মানে অনেক কিছুই। তবে অন্দরসাজে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে মাটির পাত্রে ভাসিয়ে দিন অনেকগুলো গোলাপ ফুলের পাপড়ি। শ্রাবণধারার মনোরম প্রকৃতির সঙ্গে গোলাপের সুশীতল সুবাস আর নান্দনিক উপস্থাপন ঘরে নিয়ে আসবে সতেজ আমেজ।

অনেকেরই অভিযোগ, ফুলদানিতে ফুল খুব বেশি দিন রাখা যায় না, নষ্ট হয়ে যায়। ফুলের সুবাস দীর্ঘসময় ধরে রাখতে ফুল সাজানোর আগে পানিতে লবণ ও সিরকা মিশিয়ে নিন। বেশিক্ষণ ফুল সতেজ রাখতে এর বিকল্প এখনো যে খুঁজে পাওয়া ভার। তবে কাটার ধরনের ওপরও ফুলের স্থায়িত্ব নির্ভর করে অনেকখানি। ফুলের ডগা কাটার সময় একটু তেরছা করে কাটুন। এতে ডগার মধ্যে পানি প্রবেশ করে এবং বাতাস চলাচল করতে পারে অনায়াসেই।

ফুলদানিতে ফুলের আকর্ষণীয় উপস্থাপনে এর রঙ, আকারেও ভিন্নতা থাকা চাই। বৈচিত্র্য আনতে লাল, কমলা কিংবা সাদার ওপর টানা মনোযোগ না দিয়ে একটু ব্যতিক্রমী রঙ যেমন— বেগুনি, হলুদ, হালকা গোলাপি রঙের ফুল রাখায় দৃষ্টি রাখুন। এতে বৈচিত্র্য তো আসবেই, সেই সঙ্গে ঘরে ঢুকতেই ফুলের মিষ্টি সুবাসে মন-প্রাণ জুড়িয়ে যাবে।

Share.

Leave A Reply