৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪|২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|২২ নভেম্বর, ২০১৭|বুধবার, রাত ১:৩৩

সৌদি আরবের পক্ষে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা ইজরাইলের

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরি। ২ নভেম্বর ২০১৭ বৃহস্পতিবার রাতে এক ফোন কলে তাকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানায় সৌদি আরব। পরদিন ৩ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় লেবানিজ প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি রিয়াদে অবতরণ করে। সেখানে পৌছেঁই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি আঁচ করেন লেবানিজ নেতা। কারণ একটি দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে সেখানে কোনো সৌদি কর্মকর্তা তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়নি। উল্টো তাকে বহনকারী বিমানটি রিয়াদে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই এটি ঘিরে ফেলে সৌদি পুলিশ। বিমানে উঠে কেড়ে নেওয়া হয় সাদ আল হারিরি’র ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। দেহরক্ষীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনার একদিনের মাথায় তিনি সৌদি আরবে বসে লেবানিজ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ ইস্যুতে সৌদি আরবের পক্ষে দুনিয়াজুড়ে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা তালাচ্ছে ইহুদিবাদী ইজরাইল।

লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদি আরব তাকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য করেছে। একই ধরনের কথা বলছেন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরাও।

এক সপ্তাহের মাথায় ইজরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফাঁস হওয়া এক তারবার্তায় উঠে এসেছে নতুন তথ্য। এতে বলা হয়, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে ক্ষমতাচ্যুত করার সৌদি প্রচেষ্টায় সমর্থন রয়েছে ইজরাইলের। দুনিয়ার নানা দেশে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতরা যেন নিজ নিজ কর্মস্থলে এ ব্যাপারে সৌদি উদ্যোগের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য কাজ করেন।

সাদ আল হারিরি’কে সৌদি আরবে বন্দি করার সপ্তাহখানেক আগে রিয়াদ সফর করেন ইহুদি ধর্মাবলম্বী প্রভাবশালী মার্কিন কর্মকর্তা জ্যারেড কুশনার। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মনে করা হয় তাকে।

রিয়াদ সফরে রাতভর সৌদি আরবের ক্ষমতাধর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন জ্যারেড কুশনার। এর এক সপ্তাহের মাথায় আমূল বদলে যায় সৌদি আরব। ইজরাইলি সমর্থনপুষ্ট সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শুরু হয় ব্যাপক ধরপাকড়। আটককৃতদের মধ্যে রাজপরিবারের নারী সদস্যও রয়েছেন। আটক করা হয় দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের। আটক হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা অর্ধসহস্রাধিক। এছাড়া জব্দ করা হয় ১২ হাজারের বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। রহস্যজনক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রিন্স মানসুর বিন মাকরিন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কারণে আটকের ঘটনা ঘটছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, দু্ই পূর্বসূরিকে সরিয়ে সৌদি যুবরাজের দায়িত্ব নিয়েছেন বর্তমান রাজার ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমান। তার যুবরাজের দায়িত্ব নেওয়াও ছিল প্রাসাদ ক্যু’র অংশ। এখন পরবর্তী রাজা হওয়ার পথে আর কোনও প্রতিরোধ, প্রতিবা বা প্রতিবন্ধকতা জিইয়ে রাখতে চান না তিনি। ফলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পথে যাদেরই অন্তরায় বলে মনে করছেন; তাদেরই তিনি সরিয়ে দিচ্ছেন। বর্তমান রাজার মৃত্যুর পর সৌদি সিংহাসনের মালিকানা নিশ্চিত করতেই তার এসব পদক্ষেপ। অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তার বাবা সালমান বিন আবদুলআজিজ রাজা হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানই সর্বেসর্বা। তবে ইজরাইল আর ট্রাম্প প্রশাসনের আশির্বাদ নিয়ে তিনি কতদূর অগ্রসর হতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Share.

Leave A Reply