নাচ নিয়ে পথচলা সোভিকার

বিনোদন প্রতিবেদক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: নান্দনিক শরীরী কসরত দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন নৃত্যশিল্পীরা। দেশে এমন শিল্পী তৈরির অন্যতম কারিগর বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস। আট বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করছেন নৃত্যশিল্পী সোভিকা আফরোজ। অংশ নিয়েছেন দেশ বিদেশের নানা আয়োজনে। স্বপ্ন বাংলাদেশের নাচকে একদিন তুলে ধরবেন বিশ্বদরবারে।

এ বছরের নভেম্বরে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয় ইন্দো বাংলা বর্ষা সুন্দরী প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে। বাংলাদেশ ও ভারতের সেরা সুন্দরী বাছাইয়ের এই আয়োজনে মডেল কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন সোভিকা আফরোজ। একইসঙ্গে প্রতিযোগীদের ড্যান্স প্রশিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। দ্য ঢাকা রিপোর্ট-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় সোভিকা আফরোজ জানান, আক্ষরিক অর্থেই এটা ছিল চমৎকার একটি আয়োজন। এতে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজের কাছেই ভালো লাগছে।

গত নভেম্বরে প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়া ইমসারেক্স-২০১৭। অফিসিয়াল নাম আইওএনএস মাল্টিলেটারাল মেরিটাইম সার্চ এন্ড রেসকিউ এক্সারসাইজ। ৩২টি দেশের নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এর উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। মহড়ায় নৃত্য পরিবেশন করেন সোভিকা আফরোজ।

সানসিল্ক-নকশা বিয়ে উৎসবের এবারের আয়োজনে তার পারফরমেন্স মুগ্ধ করে দর্শকদের। আগামী ১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সের এক আয়োজনে তার নৃত্যের কসরত উপভোগ করবেন দর্শকরা।

পরিবারের সদস্যদের বাইরে সোভিকার দুজন পছন্দের মানুষ দেশবরেণ্য নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ এবং ফারহানা চৌধুরী বেবি। দ্য ঢাকা রিপোর্ট’কে সোভিকা জানান, এই দুজন মানুষ আসলে আমার সেকেন্ড মম। তারা আমাকে যে পরিমাণ ভালোবাসেন, টেক কেয়ার করেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

নিজেকে দেশসেরা একজন কোরিওগ্রাফার হিসেবে দেখতে চান সোভিকা। কাজ করতে চান মডেল গ্রুমিং নিয়ে। মালয়েশিয়া, চীন ও ভারতে ড্যান্স শো’তে অংশ নেওয়া সোভিকার ইচ্ছে বাংলাদেশের নাচ, বিশেষ করে ফোক ড্যান্সকে যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটা ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড় করানো যায়। নাচের বাইরে আইটি সেক্টর নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

ময়মনসিংহের মেয়ে সোভিকার জন্ম ১৯৯৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। ২০১৩ সালে বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর ভর্তি হন ঢাকার মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরিতে। বর্তমানে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়ছেন সোভিকা ঢাকার ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটিটি)-তে।

সোভিকার মা রেহানা ইসলাম একজন গৃহিনী। এর বাইরে তার একটা বড় পরিচয় আছে। আর তা হচ্ছে মানুষের বিপদের কথা শুনলেই দৌড়ে যান এ নারী। পরিচিত কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে শুনলে সব ফেলে সেখানে হাজির হন। নিজের সাধ্যমতো পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।

সোভিকার ভাষায়, ‘আম্মু হচ্ছে আমার পৃথিবী। কোনো কাজ করতে চাইলে নানা বাহানায় আমাকে অবসর দেওয়ার চেষ্টা করে। উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়বা, বিশ্রাম কর, পড়াশুনা কর এসব শুনতে হয়।’

বাবা মোহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। এর বাইরে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রক্তদাতাদের মধ্যে একজন। সোভিকা বলেন, ‘বাবার সাপোর্ট নিয়েই আমি আজকের এ পর্যায়ে এসেছি। ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছা ছিল মেয়ে ভালো ড্যান্সার হবে, তার কাছে আমি সবসময়ই সুপার স্টার, রাজকন্যা।’

দুই বোনের মধ্যে সোভিকা ছোট। বড় বোন পাপিয়া আফরোজ সৌমিক ঢাকা ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে ফাইনাল ইয়ারে অধ্যয়নরত। দুই বোনের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া।

সোভিকার মা চমৎকার রান্না করেন। বললেন, মায়ের এ গুণটা আমরা দুই বোনই পেয়েছি। গত দু্ই বছর থেকে ঈদে বাসায় আমরাই রান্না করি। গতানুগতিক রান্নার বাইরে পিজা, বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই-এর মতো আইটেম করতে পছন্দ করি। ইউটিউব আর টেলিভিশনের রেসিপি’র বাইরে নিজেরাও ইনোভেটিভ কিছু করার চেষ্টা করি।

অবসরে গান শুনে আর মুভি দেখে সময় কাটে। পছন্দের শিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান, শ্রেয়া ঘোষাল, সানাম পুরী, আগুন, তাহসান, ইমরান, পড়শী প্রমুখ। আর্ট ফিল্মের প্রতি বাড়তি টান আছে সোভিকার। পছন্দের অভিনেতা জাহিদ হাসান, মোশাররফ করি, আরেফিন শুভ।

সোভিকার প্রিয় রঙ আকাশি, নীল ও গোলাপী। প্রিয় খাবার চাইনিজ, ফ্রাইড রাইচ, চিকেন চিলি, ফ্রাইড চিকেন। দেশীয় খাবারের মধ্যে মায়ের হাতের শুটকি। প্রিয় ফল আম লিচু। পছন্দের পোশাক শাড়ি। প্রিয় ঋতু বর্ষা, শীত, বসন্ত। বৃষ্টিতে রিকশায় ঘুরতে ভীষণ পছন্দ তার। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে পছন্দ করেন। প্রিয় মানুষদের জন্য সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করেন।

শপিং করতে ভালোবাসেন সোভিকা। নিজের ড্যান্স শো-র জমানো টাকায় শপিং করেন। কেনাকাটায় সবার আগে মাথায় থাকে মা-বাবা, বোন ও কাজিনদের কথা।

Share.

Leave A Reply