৮ মাঘ, ১৪২৪|৩ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৯|২১ জানুয়ারি, ২০১৮|রবিবার, সন্ধ্যা ৬:০৯

আনন্দ মেলায় পরিণত হয়েছে বাণিজ্য মেলা

বিজনেস ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: বাণিজ্য মেলা মানেই হাজারো পণ্যের পসরা। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের কাছে নিজেদের পণ্য ও সেবা তুলে ধরতে প্রতিবছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নেয় দেশ-বিদেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠান। বিকিকিনিও হয় প্রচুর। সারা বছর ধরে এ আয়োজনের জন্য অপেক্ষা করে দেশীয় বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ক্রেতারাও অপেক্ষায় থাকেন। কারণ বিচিত্র রকমের সামগ্রী পাওয়া যায় মেলায়। থাকে মূল্যছাড়সহ নানা আকর্ষণীয় অফার। ক্রেতা-বিক্রেতাদের এই অপেক্ষার অবসান ঘটে ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয় মেলা প্রাঙ্গণ। এই মিলনমেলা পরিণত হয় আনন্দ মেলায়।

আনন্দ মেলার এ আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন দর্শনার্থীরা। কেউবা আসেন বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। আবার কেউবা একাই চলে আসেন মেলা প্রাঙ্গণে। বেছে বেছে দরকারি আর পছন্দের সামগ্রী সংগ্রহ করেন। সঙ্গে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন। শিশুদের নিয়ে যারা আসেন তাদের অনেকেই ভিড় করেন মেলার চমৎকার শিশু পার্কে।

মেলায় কর্মরত সেলস এক্সিকিউটিভরাও কাজের ফাঁকে একটু মজা করতে, ব্যক্তিগত কিংবা দলবেঁধে ছবি তুলতে ভুল করেন না।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে মেলা প্রাঙ্গন। প্রবেশ টিকিটের দাম রাখা হয়েছে বড়দের জন্য ৩০ টাকা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য ২০ টাকা। টিকিট কিনে মেলায় প্রবেশ করা সবাই কিন্তু ক্রেতা নন। এদের একটা বড় অংশই দর্শনার্থী। কেনাকাটা না করলেও টিকিট কেটে মেলায় আসেন একটু বিনোদনের জন্য। পরিচিত নগর জীবনের বাইরে নগরের কিছুটা ভিন্ন ফ্লেভার নিতে মেলায় ছুটে আসেন তারা। দিনভর ঘুরে ঘুরে পরিচিত হন হাজার রকম পণ্যসম্ভারের সঙ্গে। মেলা প্রাঙ্গণে তখন ধ্বনিত হয় লাখো প্রাণের উচ্ছ্বাসের প্রতিধ্বনি।

আয়োজক এবং অংশ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্রেতাদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে। নিজ নিজ প্যাভিলিয়নে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানগুলো। আর নান্দনিক এসব স্টল ঘিরে থাকে সেলফি শিকারীদের ভিড়। সেলফি তুলতে গিয়ে অনেকে ঢুঁ মারেন প্যাভিলিয়নে। কিনে নেন পছন্দের সামগ্রী।

বিকিকিনি আর শিশু পার্কের বাইরে মেলার আরেক আকর্ষণ পদ্মা সেতুর আদলে সাজানো হয়েছে মেলার প্রধান প্রবেশদ্বার। ঢাকা গেটের ঐতিহ্যও ঠাঁই পেয়েছে ফটকে। ফলে সেখানেও ভিড় করেন সেলফিপ্রেমীরা। ফটক পার হতেই ফুলের উদ্যান। বাগান ঘিরে রয়েছে বসার ব্যবস্থা। সেখানে বসে কেউবা গল্পে মেতে উঠছেন, স্মৃতিচারণা করছেন। শিশু কর্নারে ব্যস্ত সময় পার করছে শিশুরা। ফুড কর্নারগুলোতে আনন্দের ঢেউ। তবে সঙ্গী নিয়ে গেলে মানিব্যাগের স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যেতে নেই।

একটি স্টলে সেলসগার্ল হিসেবে কাজ করছেন রিয়া। দ্য ঢাকা রিপোর্ট’কে তিনি জানালেন, অস্থায়ীভিত্তিতে স্টলটিতে কাজ করছেন তিনি। গতবারও একই স্টলে কাজ করেছেন রিয়া।

রিয়া বলেন, ‘বিচিত্র রকমের মানুষ আসেন মেলায়। হাজারো মানুষের দেখা মেলে প্রতিদিন। পণ্য বিক্রির বাইরেও ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন রকমের অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়। এই অভিজ্ঞতা মানুষ হিসেবে আমাদের আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।’

Share.

Leave A Reply