৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫|১০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০|১৯ নভেম্বর, ২০১৮|সোমবার, সকাল ৭:১২

যে কারণে দিনেও কয়েল জ্বালাতে হয় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে

নিউজ ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: প্রতিবছরই মশার উপদ্রবে ভোগান্তিতে পড়তে হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বিশেষ করে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী টার্মিনাল ভবনের বাইরে দায়িত্বপালন করেন, তাদের আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ কারণে মশা তাড়াতে বিমানবন্দরের কোনও কোনও জায়গায় দিনের বেলায়ও কয়েল জ্বালিয়ে রাখেন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে, মশার উপদ্রবে একটি ফ্লাইট নির্দিষ্ট সময় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিমানবন্দর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মশার কারণে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট দুই ঘণ্টা দেরি ছাড়ে। বে এরিয়ায় যাত্রী ওঠানোর সময় উড়োজাহাজে ঢুকে পড়ে মশা। উড়োজাহাজ নিয়ে রানওয়ের দিকে এগোলেও ফিরে আসতে হয় পাইলটকে। মশার উপদ্রবে বসে থাকতে না পেরে যাত্রীরা অভিযোগ করেন কেবিন ক্রুদের কাছে। তখন বাধ্য হয়ে রানওয়ের পরিবর্তে উড়োজাহাজটিকে বে এরিয়ায় ফিরিয়ে আনেন পাইলট। এরপর মশার ওষুধ ছিটিয়ে দুই ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজার আজিজুল আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনা আমাদের এয়ারলাইন্সের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। আমরা যাত্রীদের নিয়ে যথাসময়ে ফ্লাইট ছাড়ার জন্য চেষ্টা করি। যাত্রীসেবার ওপরও গুরুত্ব দেই। কিন্তু মশার কারণে আমাদের ফ্লাইটটি যথাসময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। এতে যাত্রীদের মনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। কিন্তু বিমানবন্দরে মশা যদি উড়োজাহাজে ঢুকে পড়ে, তাহলে আমাদের কিছুই করার থাকে না।’

বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের সামনে রয়েছে একাধিক জলাশয়। অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ও ভিভিআইপি টার্মিনালের মধ্যবর্তী স্থানেও রয়েছে জলাশয়। এছাড়া বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে রানওয়ের চারপাশেও রয়েছে জলাশয়। বর্ষার মৌসুমে ছাড়াও সারাবছর এসব জলাশয়ে পানি থাকে। এসব জলাশয়ে পানিতে বংশবিস্তার করে মশা। নভেম্বর মাস থেকে প্রকট আকার ধারণ মশার উৎপাত।

খোলা জায়গায় অতিরিক্ত মশা থাকে। ফলে এসব মশা ঢুকে পড়ে টার্মিনালের ভেতরেও। মশার উপদ্রবে যাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় যেসব উড়োজাহাজ বোডিং ব্রিজ না পেয়ে বে এরিয়া থেকে যাত্রী ওঠায়, সেগুলোকে। খোলা জায়গার যাত্রী ওঠানার সময় অতিরিক্ত মশা ঢুকে পড়ে উড়োজাহাজের ভেতরে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, যাত্রী কিংবা তাদের স্বজনরা বিমানবন্দরে আসেন, আবার চলে যান। কিন্তু দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দীর্ঘ সময় এ দুর্ভোগের মধ্যেই কাজ করতে হয়। এ কারণে কোনও কোনও এলাকায় দিনেও কয়েল জ্বালাতে হয়। মশার কামড়ে মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তো আছেই।

মশা নিধনে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে মশা নিধনে আমাদের তৎপরতা চলছে। এখন দুপুর থেকেই মশা নিধনে কাজ শুরু হচ্ছে। জনবলও বাড়ানো হয়েছে। বেশি সমস্যা হয় বাইরে থেকে মশা ভেতরে চলে এলে। বিমানবন্দরের বাইরের মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম বলেন, ‘বিমানবন্দরের ভেতরে মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আমাদের নয়। বিমানবন্দরের বাইরে তেমন মশা নেই। এ মৌসুমে মশা একটু বেশি থাকে। তবে মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি।’ বিমানবন্দরের ভেতরে যে মশা আছে, বাইরে তা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

Share.