৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫|৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০|১৭ নভেম্বর, ২০১৮|শনিবার, দুপুর ২:৩৭

খালি পেটে মধু ও রসুন খাওয়ার যত উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: শুধু খাবারের স্বাদ বাড়াতেই নয়, ঔষধি গুণের জন্যও রয়েছে রসুনের  বাড়তি কদর। কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে অনেক রোগ এড়ানো যায়। আর এর সঙ্গে যদি যুক্ত হয় মধু তাহলে তো কথাই নেই।

এভারগ্রিন অ্যাডামস অ্যান্ড ইভ-এর রূপবিশেষজ্ঞ নাহিদ আফরোজ তানি দ্য ঢাকা রিপোর্ট’কে বলেন, নিয়মিত রসুন সেবনে ত্বক সুন্দর হয়। বয়সের ছাপ দূর হয়। এছাড়া ফাঙ্গাশ ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে ত্বক সুরক্ষায় নিয়মিত রসুন সেবন করতে হবে। আর চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজাতে রসুন ভালো কাজ করে। এই উপকার পেতে মাথায় নিয়মিত রসুনের নির্যাস বা রসুন সমৃদ্ধ তেল ব্যবহার করতে হবে।

প্রাচীনকাল থেকে রসুনের উপকারিতা নিয়ে দুনিয়াজুড়ে চর্চা। চিকিৎসাশাস্ত্রে রসুনের ব্যবহার বহু দিনের। নিয়মিত রসুন খাওয়া রপ্ত করতে পারলে রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। হার্ট অ্যাটাক রুখতেও এর জুড়ি মেলা ভার। এমনকি সাধারণ সর্দি-কাশি, ফ্লু, ছত্রাক সংক্রমণ ও ডায়রিয়া সারাতেও কাজে দেয় রসুন। ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও করতে কাঁচা রসুন খাওয়ায় উপকারিতা মেলে। প্রতিদিন নিয়ম করে দুই ২ কোয়া কাঁচা রসুন খেলে শরীরের যৌন ক্ষমতা বাড়ে। সুস্থ স্পার্ম তৈরিতে এটি খুবই উপকারী।

শরীরের দূষণ রুখে রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়া মজবুত করতে রসুন অদ্বিতীয়। আবার কেমোথেরাপির বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতেও পেঁয়াজ-আদা-রসুনের প্রয়োগ অব্যর্থ।

রসুন কাঁচা খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। আসলে চুলায় বা আগুনে দিলে রসুনের মূল রাসায়নিক উপাদান অ্যালিসিন-এর গুণাগুণ নষ্ট হয়। খাওয়ার আগে রসুনের কোয়া বেটে বা ফালি করে কেটে নিয়ে ১৫ মিনিট সরিয়ে রাখতে হবে। রসুনের কোয়া বাটার পর যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে তাতে, তাতে অ্যালিসিন সহজে হজম হতে সুবিধা হয়। মনে রাখতে হবে, সবচেয়ে বেশি ফল মিলবে যদি খালি পেটে কাঁচা রসুন খাওয়া যায়।

আরও পড়তে পারেন:
যে কারণে দিনেও কয়েল জ্বালাতে হয় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে
নীলে ডুবে থাকা দ্বীপ
এমন বউ পেলে জীবনে কিছু লাগে না
এখনও বিয়ে না করার কারণ জানালেন সালমান খান

রসুন কাজে লাগিয়ে তৈরি করা যায় বিভিন্ন রোগের টোটকা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক অব্যর্থ দাওয়াইয়ের কিছু উপকরণ প্রণালী।

১) কাঁচা রসুন ও মধু: রসুনের ২-৩টি কোয়া কুচিয়ে নিন। তার সঙ্গে এক টেবিলচামচ মধু মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন এই মিশ্রণ খেলে শরীর ফিট ও এনার্জিতে ভরপবুর থাকবে।

২) রসুনের ফ্লু টনিক: অতিরিক্ত সংবেদনশীল ত্বক হলে এই টনিক বানানোর সময় হাতে দস্তানা পরে নিন এবং চোখে হাতের ছোঁয়া এড়িয়ে চলুন। জোগাড় করে ফেলুন অর্ধেক পেঁয়াজ কুচি, ৫ কোয়া রসুন কুচি, ২টি শুকনো লঙ্কা কুচি, ১ টেবিল চামচ আদা কুচি, একটি গোটা পাতিলেবুর রস এবং অ্যাপল সাইডার ভিনিগার।

প্রথমে একটি পাত্রে পেঁয়াজ-রসুন-আদা-শুকনো লঙ্কা কুচি মেশান। আলাদা পাত্রে লেবু চিপে রস তৈরি রাখুন। এবার কুচোনো উপকরণে লেবুর রস মেশান। সব শেষে ভিনিগার ঢেলে মিশিয়ে অন্তত ১ সেন্টিমিটার ফাঁক রেখে পাত্রটি ঢেকে রাখুন। সর্দি-কাশি, গলা ব্যথা ও ফ্লু সারাতে নিয়মিত ব্যবহার করুন।

Share.

Leave A Reply