৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫|১০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০|১৯ নভেম্বর, ২০১৮|সোমবার, বিকাল ৪:১৪

সৌদি আকাশসীমা হয়ে ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ার ইন্ডিয়া

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করে এখন থেকে তেল আবিবে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে এয়ার ইন্ডিয়া। ১৬ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনায় নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো সৌদি আরব। ফলে নতুন রুট ব্যবহার করে ইসরায়েলে আরো কম সময়ে আকাশসেবা দিতে পারবে এয়ার ইন্ডিয়া।

এমন সময়ে আকাশসীমা উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণা হলো, যখন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি সামনে আসছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এরইমধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতার খবর বেরিয়েছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার মুখপাত্র প্রবীণ ভাটনাগর জানিয়েছেন, ‘২২ মার্চ থেকে ইসরায়েলে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট চালু হবে। প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য ৭ ঘণ্টা ৫ মিনিট করে সময় লাগবে এবং সৌদি আকাশসীমার ওপর দিয়ে ফ্লাইট পরিচালিত হবে।’

২০১৭ সালের জুলাইয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনার এ নতুন রুটের ঘোষণা দেন। আর গত জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করে এ রুট পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তেলআবিবের সঙ্গে রিয়াদের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি ইসরায়েলের জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা এল আল সম্প্রতি ভারতে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রেও সৌদি ও ইরানের আকাশসীমা এড়িয়ে লোহিত সাগরের ওপর দিয়ে ঘুরে আসে।

চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন সফরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, নতুন রুটের জন্য সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে এয়ার ইন্ডিয়া। সে সময় এয়ার ইন্ডিয়ার মুখপাত্র নিশ্চিত করেছিলেন নয়াদিল্লি থেকে তেল আবিবে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। অবশ্য তখন রুট সম্পর্কে পরিষ্কারভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনায় সময় অনেক কম লাগবে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা নিয়ে বিরত আছে রিয়াদ।

যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নেতানিয়াহু বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশ জানে ইসরায়েল তাদের শত্রু নয়। বরং অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং অভিন্ন স্বার্থগুলো করায়ত্ত করার লক্ষ্যে ইসরায়েল তাদের অপরিহার্য মিত্র।’

প্রথম ভারতীয় কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত বছর ইসরায়েল সফর করেন নরেন্দ্র মোদি। তার এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরো জোরদারে গুরুত্ব দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্র শাসিত মুসলিম দেশগুলোতে লাখ লাখ ভারতীয় অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে; যারা প্রতি বছর দেশে কোটি কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে।

Share.

Leave A Reply