উজ্জ্বল লাবণ্যময় ত্বকের জন্য ১৫টি কার্যকরী টিপস

নাহিদ আফরোজ তানি, বিউটি কনসালটেন্ট, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের প্রত্যাশা কমবেশি সবারই থাকে। ঝরঝরে ত্বকে যেকোনো সাজই সুন্দর দেখায়। উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় ত্বকের জন্য দেখে নেওয়া যাক ১৫টি কার্যকরী টিপস।

০১. আঙুর:

অনেক ক্ষেত্রেই ত্বকের স্বাভাবিকতা কমে গিয়ে ত্বকের ফর্সা ভাব ও উজ্জ্বলতা কালচে হতে থাকে। বাহ্যিক ময়লা আবরণের স্তর এবং সূর্য রশ্নি দ্বারা ত্বকে কালচে ভাব তৈরি হয়। এক্ষেত্রে ত্বক ফর্সা করতে আঙুরের রস দারুণ উপকারি। কয়েকটি আঙুর নিয়ে মুখে আলতোভাবে ঘষুন। আঙুর বেটে ফেসপ্যাক তৈরি করেও মুখে লাগাতে পারেন।

০২. শশার রস:

পরিমাণ মতো শশার রসে মিশাতে হবে অল্প গ্লিসারিন আর গোলাপ জল। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ত্বক পুড়ে ফেলে। শসার রস, গ্লিসারিন ও গোলাপ জলের মিশ্রণ রোদে পোড়া ত্বকের জন্য উপকারি। রোদে যাওয়ার আগে এবং বাসায় ফিরে এগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে মাখলে ত্বক উজ্জ্বল থাকবে।

০৩. চন্দন:

বয়সের ছাপ, বিষণ্নতা, অযত্ন, স্বাভাবিক আলো বাতাসের অভাবে ত্বকের সতেজতা হ্রাস পায়। চন্দন গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য হলুদ গুঁড়া ও দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। ত্বক সতেজ আর সুন্দর করতে এই মিশ্রণটি বেশ কার্যকর।

০৪. মধু:

দুধের সরের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বক হবে নরম আর উজ্জ্বল। শীতকালে এই মিশ্রণটি আপনাকে ত্বক নিয়ে অনেকটাই নিরুদ্বেগ রাখবে।

০৫. দুধ:

প্রাত্যহিক কাজকর্মের মাঝেই ত্বকের ভাঁজে ভাঁজে ধূলাবালি ও ময়লা লেগে বাহ্যিক ময়লা আবরণের স্তর লোমকূপের মাধ্যেম টিস্যু/কোষে জমা হয়। ফলে ত্বকে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না। দুধের মধ্যে এক চিমটি লবণ আর লেবুর রস মেশান। এই মিশ্রণটি আপনার ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করবে।

০৬. টমেটো

বাহ্যিক ধূলাবালি, ময়লা, সূর্যের তাপ ও অযত্ন-অবহেলার কারণে ত্বকের স্বাভাবিক মসৃণ ভাব কমে ত্বক রূক্ষ হয়ে যায়। তাই ত্বক নরম করতে টমেটোর রস খুবই কার্যকরী। টমেটোর রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিয়মিত ত্বকে লাগালে ভালো ফল পাবেন।

০৭. হলুদের গুঁড়া:

অনেকের ত্বকে অবাঞ্চিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত লোম থাকে। এটি মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করে। হলুদের গুঁড়া, গমের ময়দা ও তিলের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে মাখুন। এই মিশ্রণটি আপনার ত্বককে অনাকাঙ্ক্ষিত লোমের হাত থেকে দূরে রাখবে।

০৮. বাধাকপির রস:

একটা সময় সবারই বয়স বাড়তে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বিভিন্ন বলিরেখা তৈরি হয়। বাধাকপির রস ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। বলিরেখা দূর করতে এই মিশ্রণ খুব উপকারী।

০৯. গাজরের রস:

ত্বকে অক্সিজেনের অভাব হলে উজ্জ্বলতা হ্রাস পায়। ত্বকে ময়লা জমলে অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে না। গাজরের রস মুখে আনে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা। এটি নিয়মিত মুখে লাগালে ত্বক সতেজ থাকবে এবং উজ্জ্বলতা বাড়বে।

১০. দারুচিনি:

খাদ্যভ্যাস, ময়লা-ধূলাবালি, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, নিদ্রাহীনতা, ধূমপান, মাদক এবং অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবনে মুখে ব্রণ হয়। তিন ভাগ মধু ও এক ভাগ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি ব্রণের উপর লাগান। সারারাত রেখে পরদিন ধুয়ে ফেলুন। এই পেস্টটি আপনার ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করবে।

১১. বাদামের তেল:

শহরের যান্ত্রিক পরিবেশে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক বাতাসের অভাব রয়েছে। এর ফলে ব্রণ ও ব্ল্যাকহেড তৈরি হয়। বাদামের তেল ও লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। এই মিশ্রণটি ব্রণ ও ব্ল্যাকহেড দূর করবে। ত্বককে রাখবে সতেজ ও সুন্দর।

১২. অ্যলোভেরা:

ত্বকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির অভাবে ত্বকের সজীবতা হ্রাস পায়। ত্বক সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে তাই পানি আবশ্যক। আ্যলোভেরার রস মুখে লাগালে ত্বকের দাগ দূর হয়। আ্যলোভেরার রস ত্বকের পানিস্বল্পতা দূর করে লাবণ্য ফিরিয়ে আনে।

১৩. ঘি

অনেকেই শরীরের বিভিন্ন স্থানের ত্বকের মসৃণতা বজায় রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু বাজারের কেমিক্যালযুক্ত এবং প্যাকেটজাত সামগ্রী অনেক ক্ষেত্রে বিপরীত প্রভাব ফেলে। ঘি ও গ্লিসারিনের মিশ্রণ খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার। রাসায়নিক ময়েশ্চারাইজারের বদলে এটি ব্যবহার করতে পারেন। তফাৎ নিজেই টের পাবেন।

১৪. মুলতানি মাটি, নিমপাতা এবং…

মুলতানি মাটি, গোলাপ পাপড়ি, নিম পাতার গুঁড়া, তুলসি পাতার গুঁড়া, সামান্য গোলাপ জল বা লেবু পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল থাকবে।

১৫. অ্যাপ্রিকট ও দই:

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন অনিয়মের ফলে ত্বকের কোষে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। অ্যাপ্রিকট এবং দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ত্বক সতেজ রাখে। যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয় তাহলে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে মুখে লাগান।

Share.

Leave A Reply