৬ আশ্বিন, ১৪২৫|১০ মুহাররম, ১৪৪০|২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮|শুক্রবার, দুপুর ১:৪৪

একজন মাহাথির মোহাম্মদ

পাঠান সোহাগ, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: ছোটবেলায় ছেলেটির ছিল ভীষণ কুকুরভীতি। পথে কুকুর দেখলেই ভোঁ-দৌড়। প্রচণ্ড ভয় পেয়ে একদিন সিদ্ধান্ত নিল আর ভয় পাবে না সে। প্রতিজ্ঞা করল, কুকুর দেখলেই চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে থাকবে। এটা বেশ কাজ দিল। কদিন পর এই সিদ্ধান্তই পাল্টে দিল তার জীবনের মোড়। কারো রক্তচক্ষুই আর পরোয়া করে না ছেলেটি। কোনো সমস্যায় পালিয়ে না গিয়ে সমস্যা মোকাবিলা ও এর উৎস খুঁজে বের করা পরিণত হয় তার স্বভাবে। আর এমন দুঃসাহসী স্বভাবই তাকে পৌঁছে দেয় সাফল্যের স্বর্ণশিখরে। হয়ে উঠেন অদম্য সাহসী আর দেশপ্রেমিক এক কিংবদন্তি রাষ্ট্রনায়ক। নাম ড. মাহাথির মোহাম্মদ। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা মাহাথির ছিলেন টানা ২২ বছরের প্রধানমন্ত্রী। মেয়াদ থাকতেই ২০০৩ সালের ৩০ অক্টোবর স্বেচ্ছায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অবসর নেন মাহাথির। ১৫ বছর অবসর কাটানোর পর আবার যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরলেন, তখন তাঁর বয়স ৯২ বছর। এই বয়সেও তিনি প্রাণবন্ত। ২০১৮ সালের ১০ মে শপথ নিলেন দুনিয়ার সবচেয়ে প্রবীণ এই সরকারপ্রধান।

মাহাথিরের জন্ম ১৯২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর। ১০ ভাইবোনের সংসারে তিনি কনিষ্ঠতম সদস্য। তার পিতা ছিলেন স্কুলশিক্ষক। ১৯৪১ সাল, দুনিয়াজুড়ে তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা। আট ডিসেম্বর মধ্যরাতে মালয়েশিয়া আক্রমণ করে বসে জাপান। তারা দেশটিতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠা করে জাপানি স্কুল। মাহাথিরের বয়স তখন ষোলো। প্রথমে তিনি জাপানি স্কুলে যেতে চাননি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পিতার চাপে ওখানেই ভর্তি হন। মালয়েশিয়ায় জাপানি শাসন প্রায় তিন বছর স্থায়ী ছিল। ১৯৪৭ সালে তিনি সিঙ্গাপুরের কিং এডওয়ার্ড মেডিসিন কলেজে ভর্তি হন। সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন সেখানকার মালয় ছাত্রদের নিয়ে গঠন করেন মালয়েশিয়া স্টুডেন্ট এ্যাসোসিয়েশন। সিঙ্গাপুরে পড়ার সময় একই কলেজের ছাত্রী সিতি হাসমা মো. আলীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সিতি হাসমা তখন দ্বিতীয় মালয় মহিলা হিসেবে সিঙ্গাপুরে বৃত্তি নিয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ছিলেন। পড়াশোনা শেষে ১৯৫৩ সালে তিনি ফিরে আসেন মালয়েশিয়ায়। ১৯৫৬ সালের ৫ আগস্ট সিতি হাসমার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মাহাথির। মাহাথির-সিতি দম্পতির মোট সাত সন্তান। এর মধ্যে তিন জনকে তারা দত্তক নিয়েছিলেন। পরিবার সম্পর্কে মাহাথির বলেন, ‘‘প্রত্যেকের নিজ পরিবার একটি নিরাপদ জায়গা। এটা আমাদের জটিল সমাজে স্থিরতা আনে।’’

আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মোহাম্মদ। ভঙ্গুর অর্থনীতির একটা দেশকে দিয়ে গেছেন শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো। তার শাসনামলেই তৈরি হয় আধুনিক মালয়েশিয়ার গর্বের প্রতীক পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার। মেরুদণ্ড সোজা করে কিভাবে বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলতে হয় সেটা শিখিয়ে গেছেন উত্তরসূরিদের। দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে পরিণত হয়েছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে। মালয়েশিয়ায় হলেও শিকড় তার বাংলাদেশে। জাহাজের নাবিক তার দাদা বাংলাদেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় বিয়ে করে ওখানেই স্থায়ী হন।

পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার কিছুদিন পরই জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় রাজনীতিতে। ১৯৭৪ সালে নিজ দল ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী হয়ে ঘোষণা করেন, তার নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা যাবে না। এই ধারা পরবর্তীতে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েও অব্যাহত রাখেন। নির্দেশনা দেন তার কোনো ছবি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিংবা সরকারি অফিসে টাঙানো যাবে না। মালয়েশিয়াকে বদলে দেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা সংস্কার হচ্ছে মাহাথিরের প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুই বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৬ সালে তিনি দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী হন। এখানেও রীতিমতো রকস্টার মাহাথির। ১৯৮১ সালের ১৬ জুলাই। দিনটা যে মালয়েশিয়ার জনগণের জন্য একটা স্বর্ণোজ্জ্বল দিন ছিল এটা হয়তো তখন বুঝতে পারেনি কেউই। এ দিনটিতেই ৫৫ বছর বয়সে মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রীর আসন অলঙ্কৃত করেন আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মোহাম্মদ।

ইতিহাসের মহানায়ক

বিশ্ব ইতিহাসে মহানায়ক হওয়ার যোগ্যতা আছে কয়জনের? এমন প্রশ্নের উত্তরে উঠে আসবে বেশ কজনের নাম। এদের কেউ কেউ মানুষের হƒদয় জয়ের চেয়ে অন্য দেশ বা ভূখণ্ড জয়কেই বড় করে দেখেছেন। আবার তাদের দেশজয়ের পেছনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেয়ে নিজের শক্তি প্রদর্শনের ইচ্ছেটাই ছিল বেশি। রাজ্য জয়ের নেশায় বিভোরদের তালিকায় নেই মাহাথির। জনগণের হৃদয় জয়েই তার যত কর্মপ্রচেষ্টা। ভঙ্গুর অর্থনীতির একটা দেশকে দিয়ে গেছেন শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো। মেরুদণ্ড সোজা করে কিভাবে বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলতে হয় উত্তরসূরিদের সেটা বেশ ভালো শিখিয়ে গেছেন তিনি। দেশ-কালের সীমানা ছাড়িয়ে পরিণত হয়েছেন এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে।

অন্য দশজনের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েই রাতারাতি পাল্টে যাননি মাহাথির। বলেছেন, ‘যেসব নেতা জনগণ থেকে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকেন, আমি তাদের মতো নই। আমি একজন সাধারণ মানুষ হয়ে থাকতেই পছন্দ করি। পছন্দ করি নিজে বাজার করতে। সবার সঙ্গে মিশে কফি পান আমার পছন্দ।’ পরতেন নিজের নাম লেখা ব্যাজ। দেশকে ভালোবাসতেন বলেই দেশের মানুষকে নিয়েই তার যত চিন্তা। সঙ্গে রাখতেন ছোট্ট একটা নোটবুক। সব চিন্তা লিখে রাখতেন ওটাতে। লেখার তালিকায় ছিল সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয় থেকে শুরু করে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর সাজানোর মতো বিষয়। একেই বলে স্বপ্নদ্রষ্টা।

মালয়েশিয়ায় তখন গাড়ি উৎপাদন হতো না। ভিনদেশি গাড়িতে আর কত দিন? চিন্তা করলেন নিজ দেশেই গাড়ি তৈরির কারখানা বানিয়ে ফেললে কেমন হয়? যেই ভাবা সেই কাজ। জাপানের বিশ্ববিখ্যাত মিটসুবিশির সহায়তায় তৈরি হয় প্রোটন সাগা নামের মালয়েশিয়ান গাড়ি। আধুনিক মালয়েশিয়ায় শিক্ষা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, উন্নত কারুকার্যের সুউচ্চ অট্টালিকা, বিশ্বখ্যাত বিপণিবিতান সবই হয়েছে মাহাথিরের কল্যাণে। রূপকথার গল্পের মতোই পাল্টে দিয়েছেন গোটা দেশকে। তার হাত ধরে মালয়েশিয়া পৌঁছে গেছে উন্নত বিশ্বের তালিকায়।

তাঁর শাসনামলেই তৈরি হয় আধুনিক মালয়েশিয়ার গর্বের প্রতীক পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার। তাইপে ১০১ নির্মিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ টাওয়ার। অবশ্য যমজ টাওয়ার হিসেবে এখন পর্যন্ত উচ্চতায় একে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি অন্য কেউ।

মাহাথির বলেন, ‘‘যে কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে প্রয়োজন কাজের গতি সঞ্চালনের একটি সুষ্ঠু প্রক্রিয়া। একজন পাইলট হিসেবে আপনি ভুল করলে উড়োজাহাজ কিন্তু আপনাকে ক্ষমা করবে না। কাজেই আপনাকে উড়োজাহাজ চালনার ফ্লাইট চার্ট অবশ্যই সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে। নেতার কর্তব্য হলো কাজের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির সঙ্গে তার লোকদের সম্পৃক্ত করা। সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাতে হবে ‘কী’ তাদেরকে করতে হবে এবং ‘কেন’ করতে হবে। কাজের প্রতিটি স্তর ও পদক্ষেপ সম্পর্কে লোকদের অবহিত করাও নেতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এভাবেই নেতা সবার কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেন। চাকা যাতে ঠিকভাবে ঘোরে সেটা নিশ্চিত করা নেতার কাজ।’’

আমাকে ১০ জন যুবক দাও

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’ আর মাহাথির বলেছিলেন, ‘আমাকে দশজন যুবক দেওয়া হলে মালয়ীদের সাথে নিয়ে আমি বিশ্বজয় করব।’ বাস্তবে হয়েছেও তাই। মালয়েশিয়ার নতুন প্রজন্মকে তিনি দেশপ্রেমে এমনভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন, তারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।

একই সঙ্গে ধর্মীয় গোঁড়ামি আর পশ্চিমা দুনিয়ার সাম্রাজ্যবাদী আচরণের বিপরীত মেরুতে অবস্থান নেন মাহাথির। মডারেট মুসলিম হিসেবে পরিচিত মাহাথির তার ‘এ নিউ ডিল ফর এশিয়া’ গ্রন্থে বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম আমাদের জীবনের অংশ। একে পরিত্যাগ করার কোনো কারণ নেই। সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হলে ধর্ম কখনই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বাধা হতে পারে না। ইসলামের শিক্ষা সমসাময়িক সময়ের দৃষ্টিভঙ্গিতে নিতে হবে। ইসলাম শুধু সপ্তম শতাব্দীর ধর্ম নয়, ইসলাম অবশ্যই সর্বকালের ধর্ম।’

সিংহাসনকে গুডবাই

২০০৩ সালের ৩১ অক্টোবর। টানা ২২ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার পর ৭৭ বছর বয়সে মেয়াদ থাকতেই স্বেচ্ছায় ক্ষমতার মসনদকে গুডবাই জানান মাহাথির। নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ করে দিতেই তার এ পদত্যাগ। এ সময় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কাঁধ থেকে দেশ পরিচালনার বোঝা সরাতে পেরে স্বস্তি লাগছে। জনগণ আমাকে ভুলে গেলেও আমার কোনো দুঃখ থাকবে না।’ শেক্সপিয়ারের জুলিয়াস সিজার নাটকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘মন্দটাই মনে রাখে মানুষ। ভালোটা হাড়গোড়ের সঙ্গে মাটিতে মিশে যায়। জনগণ আমাকে মনে রাখল কি রাখল না তাতে আমার কিছুই যায়-আসে না।’

ড. মাহাথির মোহাম্মদ এবং আনোয়ার ইব্রাহিম

প্রত্যাবর্তন

২০১৮ সালের ৯ মে মালয়েশিয়ায় ১৪তম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে মালয়েশিয়া শাসন করা বারিসান ন্যাশনালের ভিত এবার নড়ে যায়। গণরায় আসে মাহাথির সমর্থিত আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন পাকাতান হারাপান। মাহাথির মোহাম্মদও নিজেও এক সময় বারিসান ন্যাশনাল জোটের অংশ ছিলেন। তবে ১৫ বছর পর রাজনীতির মঞ্চে ফিরেই নিজের দল ও এক সময়ের শিষ্য নাজিব রাজাকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ান। মাহাথির বলেছিলেন, যে রাজনৈতিক দল দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়, সেই দলে থাকা লজ্জার।

বিরোধীদলীয় জোট পাকাতান হারাপান ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ঝানু রাজনীতিক মাহাথিরকে নিজেদের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করে। তখন মাহাথির বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকবেন না তিনি। আনোয়ার ইব্রাহিমকে ক্ষমতায় এনেই বিদায় নেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১০ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মাহাথির। সমঝোতা অনুযায়ী, দুই বছরের মধ্যে জোটনেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন তিনি।

এক সময় তথাকথিত সমকামিতার অভিযাগে নিজ প্রশাসনের উপপ্রধানমন্ত্রী জনপ্রিয় রাজনীতিক আনোয়ার ইব্রাহিমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন মাহাথির। সেই আনোয়ারের আশীর্বাদ ও তাঁর জোটের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবেই আজ তিনি ফের মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের এটাই শেখার যে, যোগ্যতা থাকলে কারাগারে আটকানো কোনো ব্যাপার তো নয়, বরং কখনো সেটাই হতে পারে নিজের ও জাতির পরিত্রাণের উৎস।

মাহাথিরের শিকড় বাংলাদেশে

২০১৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (ইউআইটিএস) এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মাহাথির বলেন, ‘চট্টগ্রামের কাপ্তাই রাঙ্গুনিয়ার কোনো একটি গ্রামে আমার দাদার বাড়ি ছিল এবং দাদা পরবর্তী সময়ে মালয়েশিয়ায় বসতি স্থাপন করেন।’ তার এই কথার সূত্র ধরেই খোঁজ নিয়ে জানা যায় চট্টগ্রাম জেলার উত্তরাংশে রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন চন্দ্রঘোনা ও কাপ্তাইগামী সড়কের সামান্য পূর্বে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম মরিয়মনগর। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এ গ্রামের এক যুবক ব্রিটিশ শাসিত মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। তিনি ছিলেন জাহাজের নাবিক। মালয়েশিয়ায় গিয়ে এক মালয় নারীকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে জন্ম নেন মোহাম্মদ ইস্কান্দার নামের এক পুত্র সন্তান। আর এই মোহাম্মদ ইস্কান্দারের পুত্র মাহাথির মোহাম্মদ।

Share.

Leave A Reply