মাদকের সমাধান স্লোগানেই!

জান্নাতুন নুর দিশা: ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে।’ অসাধারণ একটি স্লোগান। এই মাদকাসক্তি তিলেতিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের যুবসমাজকে। আমরা চাই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে। যুদ্ধ যেহেতু ঘোষণা করলামই আমরা, সমাজে এর কুপ্রভাবের আগাগোড়া একটু বিশ্লেষণ জরুরি নয় কী?

যুবসমাজ কেন মাদকাসক্ত হচ্ছে? এই প্রশ্নটি নিজের মনকে একবার করে দেখলেই প্রথম মাথায় আসে যে উত্তর তা হলো বেকারত্বের হতাশা। হ্যাঁ, সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জন করেও একজন তরুণ বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার জন্য কোনো কাজ নেই। সরকারি চাকরিতে আসন কম, বন্টনে সমতা নেই, ঘুষ ছাড়া চাকরি নেই, ব্যবসার পুঁজি নেই, ঋণখেলাপির দৌরাত্ম্যে বিনিয়োগের জায়গা নেই।

সার্টিফিকেটের ফাইল হাতে দিনের পর দিন এ অফিস ও অফিস ঘুরে বেড়ানো তরুণটি একদিন ফাইল ছুড়ে ফেলে হয়তো হাতে মাদক নিয়েছে হতাশা ভুলতে।

যে তরুণটি ভিটেমাটি বিক্রি করে একটা কাজের জন্য বিদেশ গিয়ে প্রতারিত হয়ে ফিরে এসেছে সে হয়তো উদভ্রান্তের মতো হতাশা ভুলতে হাতে মাদক তুলে নিয়েছে।

যে তরুণটি তার সমস্ত সঞ্চয় বিনিয়োগ করেছিলো ডেসটিনি বা শেয়ার বাজারের মতো জায়গায়, সব হারিয়ে পথে বসে সে হয়তো একদিন হাতে মাদক তুলে নিয়েছে হতাশায়।

তরুণরা চাকুরি খুঁজতে গিয়ে গুণীজনের উপদেশ পেয়েছে স্বনির্ভর হও। স্বনির্ভর হতে গিয়ে দেখেছে তাদের মূলধনেরই কোনো নিরাপত্তা নেই। ঋণখেলাপিতে ছেয়ে গেছে বিনিয়োগের জায়গাগুলো।

আচ্ছা এই তরুণরা যাদের চোখে একরাশ স্বপ্ন ছিলো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে, যাদের হাতে সঁপে ছিল পরিবারের ভবিষ্যৎ, বৃদ্ধ পিতামাতার চিকিৎসার ভার, বোনের বিয়ের খরচ যোগানোর দায়। এই ভীষণ হতাশার বিভীষিকাময় অন্ধকারে ডুবে যাওয়া তরুণেরা হাতে মাদক তুলে নিয়েছে হয়তো সমস্ত যন্ত্রণাকে ভুলে থাকবার প্রয়াসে। এই লাগামহীন হতাশাকে দূর করাই কি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ নয়?

সামাজিক, নৈতিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গে আসা যাক। ক্রম অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হওয়া মূল্যবোধহীন সামাজিক কাঠামো কি সমাজে মাদকের বিস্তৃতি বাড়িয়ে দেয় না? মূল্যবোধ যদি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা না করা হয় সমাজ থেকে মাদকের শিকড় উপরে ফেলা কি আদৌ সম্ভব?

কয়জন মাদক ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ারে নির্মূল করবেন? নাহয় তাদের একেবারে নিশ্চিহ্ন করেই দিলো। তবু কি আসলে মাদকের শতভাগ প্রতিরোধ সম্ভব? এ যুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব? নতুন করে আবার কি মাদক ব্যবসায়ী জন্ম নেবে না?

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যে জাতির তরুণরা কর্মহীনতায় ভুগেছে সে জাতির ঘরে ঘরে আফিমচর্চা হয়েছে, মাদক ছেয়ে গেছে মস্তিষ্ক থেকে মস্তিষ্কে।

শেষে এটুকুই আহবান, চলুন বেকারত্ব ঘোচাই, হতাশা দূর করি। চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে।

লেখক: সাহিত্য সম্পাদক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম

বিভাগ:কলাম
Share.

Leave A Reply