শুভ জন্মদিন নাজনীন সুলতানা রিমি

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: খ্যাতিমান উদ্যোক্তা নাজনীন সুলতানা রিমি জন্মদিন ১৩ জুন। শুভ জন্মদিন নাজনীন সুলতানা রিমি। ১৯৮৩ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার মিরপুরের পৈত্রিক নিবাসে জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদাবাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জে। নানাবাড়ি ঢাকার দোহারে।

এম এ মান্নান তালুকদার ও আম্বিয়া খাতুন দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে নাজনীন সুলতানা রিমি পঞ্চম। এম এ মান্নান তালুকদার দীর্ঘদিন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে সার্জন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মা ছিলেন একজন গৃহিনী।

রাজধানীর মিরপুরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর ভর্তি হন মিরপুরের বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজে। এরপর ইডেন কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিং-এ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

নাজনীন’স ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার নাজনীন সুলতানা রিমি ব্যবসায়িক কাজের বাইরে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ওডব্লিউইএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

নাজনীন সুলতানা রিমি দ্য ঢাকা রিপোর্ট’কে জানান, নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে তার কাজ দীর্ঘদিনের। ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ৪৯ জন উদ্যোক্তাকে নিয়ে মিলিত হয় তার ফেসবুক গ্রুপ ‘ফ্যাশনেবল ডিভাস’। ওই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন জিনাত হাকিম। একই বছরের ৫ মে ওডব্লিউইএ-এর ৮ জন নারী উদ্যোক্তার ঈদ কালেকশন নিয়ে উত্তরা ক্লাবে একটি ফ্যাশন শো’র আয়োজন করা হয়। বর্তমানে ১৯৪ জন নারী উদ্যোক্তা এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

ব্যবসার বাইরে বিভিন্ন মানবিক কাজে অংশ নেয় ‘ফ্যাশনেবল ডিভাস’। সাধ্যমতো চেষ্টা করেন বিভিন্ন এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমের পাশে দাঁড়ানোর। ঠাণ্ডার দিনে শীতবস্ত্র নিয়ে ছুটে যান গরিব মানুষদের কাছে। চেষ্টা করেন দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সাধ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে।

নাজনীন সুলতানা রিমি’র কর্মজীবন শুরু ২০০১ সালে। ওই বছর ব্যক্তিগত পরিসরে বুটিকের ব্যবসা শুরু করেন। কাজের গুণগত মানের কল্যাণে ব্যবসায়ের প্রথম বছরেই যুক্ত হন পোশাক ব্র্যান্ড আড়ং-এর সঙ্গে। এক পর্যায়ে যুক্ত হন থাইল্যান্ডের একটি তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। প্রতিষ্ঠানটির কল্যাণে থাইল্যান্ডে তার পোশাক ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

ফ্যাশন ডিজাইনিং-এর কল্যাণে রঙ নিয়েই কাজ তার। শৈশব থেকেই ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। নাজনীন সুলতানা রিমি দ্য ঢাকা রিপোর্টকে জানান, তার প্রিয় রঙ সাদা-কালো-আকাশী, বেগুনী। প্রিয় খাবার খিচুড়ি ও নানা আইটেমের ভর্তা। প্রিয় ফল আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম প্রভৃতি। পছন্দের পোশাক শাড়ি, সালোয়ার কামিজ। বই পড়তে খুব ভালোবাসেন। প্রিয় লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম।

পছন্দ তালিকায় রয়েছেন জসিম উদ্দীন, জাফর ইকবাল, হুমায়ুন আহমদ প্রমুখ। এছাড়া ব্রিটিশ লেখক ড্যান ব্রাউনের লেখার প্রতি বাড়তি টান আছে তার। বেশ কয়েকবার পড়েছেন ‘দ্য ভিঞ্জি কোড’ বইটি। পাঠ্য তালিকার বাইরে নেই জে কে রাউলিং-এর হ্যারি পটার সিরিজের কোনো বই। প্রিয় ঋতু শীতকাল। বৃষ্টিতে ভিজতে, ঘুরতে ভীষণ পছন্দ তার। মুভি দেখতে, গান শুনতে খুব পছন্দ করেন।

ঘুরে বেড়াতে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। ঘোরাঘুরির জন্য পছন্দের স্থানগুলোর মধ্যে শীর্ষে আছে প্রকৃতিকন্যা সিলেট।

ব্যক্তিগত জীবনে খুবই ব্যস্ত সময় কাটে বরেণ্য এ উদ্যোক্তার। রিসালাত হাসান খান অগ্রণী ব্যাংকে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। একমাত্র সন্তান পুত্র নাবহান হাসান অনিন্দ্যের বয়স পাঁচ বছর। নাবহান ঢাকার একটি স্কুলে প্লে গ্রুপে পড়ছে।

জন্মদিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নাজনীন সুলতানা রিমি দ্য ঢাকা রিপোর্ট’কে বলেন, ২০০৫ সালে মায়ের ইন্তেকালের পর থেকে সেভাবে জন্মদিন পালন করা হয় না। তবে স্বামী কেক নিয়ে আসলে রাতে ঘরোয়াভাবে কেক কাটা হয়।

নিজের ব্যবসাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সমৃদ্ধ এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন নাজনীন সুলতানা রিমি। স্বপ্ন দেখেন প্রতিটি মেয়ে যেন স্বাবলম্বী হয়, নিজের প্রতিভার যেন পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।

বিভাগ:জন্মদিন
Share.

Leave A Reply