৬ আশ্বিন, ১৪২৫|১০ মুহাররম, ১৪৪০|২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮|শুক্রবার, দুপুর ২:৩৮

তুরস্কের নির্বাচনে এগিয়ে এরদোয়ান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। পার্লামেন্ট নির্বাচনেও এগিয়ে রয়েছে তার দল একে পার্টি’র নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্স। ৩৫ শতাংশ ব্যালট বাক্সের ফলাফল অনুযায়ী, এরদোয়ান পেয়েছেন ৫৭ শতাংশ ভোট। পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১৮ শতাংশ ব্যালট বাক্স খোলা হয়েছে। এতে পিপলস অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৬২ শতাংশ ভোট।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল আতাতুর্কের দল সিএইচপি’র প্রার্থী মুহাররেম ইনজে এ পর্যন্ত পেয়েছেন ২৮ শতাংশ ভোট। তার দলের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে ২৭ শতাংশ ভোট।

৬০০ আসনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জিততে হলে একেপি’কে ৩০০টির বেশি আসন নিশ্চিত করতে হবে। অবশ্য এরদোয়ান ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ আসন না পেলে তার দল অন্যদের সঙ্গে নিয়ে জোট সরকার গঠন করবে।

এরদোয়ানের একেপি’র নেতৃত্বাধীন ‘পিপলস অ্যালায়েন্স’ জোটে রয়েছে একে পার্টি, ডানপন্থী জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপি। অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদে বিশ্বাসী কামাল আতাতুর্কের দল সিএইচপি’র নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল অ্যালয়েন্স’ জোটে রয়েছে ডানপন্থী ইয়ি পার্টি এবং ইসলামপন্থী দল সাদাত পার্টি। দুই শক্তিশালী জোটের কারণে এরদোয়ানের পিপলস অ্যালায়েন্সের নিরঙ্কুশ জয় কঠিন হয়ে পড়বে। রবিবারের নির্বাচনে কোনও দল বা জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে ভোটগ্রহণ দ্বিতীয় দফায় গড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে প্রভাবশালী সিএইচপি’র ভোট এরদোয়ানের বিরোধীদের বাক্সেই পড়বে।

এরদোয়ানের দল একে পার্টি’র প্রধান প্রতিপক্ষ সিএইচপি আধুনিক তুরস্কের স্থপতি মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের দল। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তুরস্কের রক্ষণশীলরা দলটিকে অভিজাততন্ত্রের ধারক-বাহক হিসেবে দেখে এসেছে। অন্যদিকে কুর্দিরা দলটিকে দেখেছে বলপ্রয়োগকারী একনায়কতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে। কিন্তু এখন যারা এরদোয়ানের বিরোধিতা করছেন তারা সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পক্ষপাতী। তাদের প্রত্যাশা, এরদোয়ানবিরোধী ইসলামপন্থী ও কুর্দিদের এক করতে পারবেন মুহাররেম ইনজে।

এরদোয়ানের প্রধান সমর্থক হচ্ছেন রক্ষণশীল এবং ধার্মিক অপেক্ষাকৃত বয়স্ক তুর্কিরা। তিনি তুরস্কের এতকাল ধরে চলে আসা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামী মূল্যবোধকে শক্তিশালী করেছেন এবং তার সময়ে দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

ইস্তাম্বুল থেকে সাংবাদিক সরোয়ার আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে মুহাররম ইনজে’র জোটের প্রতি সমর্থন ২৯-৩০ শতাংশ। এরদোয়ানের একে পার্টির সমর্থন ৪৮-৪৯ শতাংশের মতো। তাই নির্বাচনে কি ফল হবে তা নিয়ে বেশ কিছুটা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। সব বিরোধী দল যদি এক হয়ে ভোট দেয় তাহলে ভোট দ্বিতীয় দফায় গড়াতে পারে। দৃশ্যত প্রথম দফা ভোটে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারাই দ্বিতীয় দফায় ভালো করবে।

তুরস্কের নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

তুরস্কের অবস্থান এমন এক জায়গায় যে এর নেতা কে হচ্ছেন তার বৈশ্বিক গুরুত্ব আছে। কারণ তার একদিকে ইউরোপ, অন্যদিকে ইরাক আর সিরিয়ার সীমান্ত। মুসলিম বিশ্বের এক নেতৃস্থানীয় দেশ তুরস্ক পশ্চিমা বিশ্বেরও গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, ন্যাটো জোটের সদস্য। ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও সদস্য পদপ্রার্থী। তুরস্কের সেনাবাহিনী নেটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাহিনী। জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের ইজরাইল দূতাবাস স্থাপন থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ মুসলমানদের স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোতে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন এরদোয়ান। সৌদি জোটের কাতারবিরোধী অবরোধ নিস্ফল করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মিসরের ইতিহাসের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির পক্ষেও আওয়াজ তুলেছেন এরদোয়ান।

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দৃশ্যত ইসলামী মূল্যবোধকে পরিত্যাগ করে ইজরাইল ও আমেরিকামুখী হওয়ার পর এ মুহূর্তে মুসলিম বিশ্বের আস্থার জায়গা হিসেবে দেখা হচ্ছে এরদোয়ানকে। তবে ২৪ জুনের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে তুরস্ক কি তার বর্তমান নীতি বহাল রাখবে নাকি কামাল আতাতুর্কের দেখানো ধর্মনিরপেক্ষতার পথে হাঁটবে! সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আল জাজিরা, বিবিসি, মিডল ইস্ট আই।

Share.

Leave A Reply