এখনও রাজত্ব করছেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ

সালমান তারেক শাকিল: হ‌ুমায়ূন আহমেদ প্রয়াত হয়েছেন ২০১২ সালের ১৯ জুলাই। কিন্তু এখনও রাজত্ব চলছে তার। কি গল্পে আর কি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে—সর্বত্র এই বরপুত্রের অসামান্য নির্মাণ এখনও পাঠককে টেনে নেয়, মাতিয়ে রাখে মায়াবী রাতের মতো। প্রতিদিন তার পাঠক তৈরি হচ্ছে, প্রতিনিয়ত তিনি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন পাঠকের কাছে, দর্শকের কাছে। কথাশিল্পের এই জাদুকরের মৃত্যুর ছয় বছর পরেও বইমেলা বা বইয়ের দোকানে তার গ্রন্থগুলোতেই থাকে পাঠকের নজর। তার হিমু চরিত্রকে কেন্দ্র করে এখনও ফ্যাশনের দোকানে হলুদের ঢেউ ওঠে। তার ভক্ত ও অনুসারীরা বলছেন, আরও শতাধিক বছর বেঁচে রইবেন হ‌ুমায়ূন আহমেদ, তার রাজত্ব টিকে থাকবে আরও বহু বছর।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের প্রকাশকরা বলছেন, তার নতুন বা পুরনো সব গ্রন্থই সর্বোচ্চ বিক্রিত বইয়ের তালিকায় স্থান করে নেয়। তার প্রায় ১১৭টির মতো বই প্রকাশ করেছে অন্যপ্রকাশ। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মাযহারুল ইসলাম বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর ছয় বছর হলো, এখনও তার বই কিনতে পাঠকরা উদগ্রীব থাকেন। পুরনো বইও এখন বিক্রি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পাঠক তৈরি হচ্ছে।’

মাযহারুল ইসলাম আরও বললেন, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদের বই আগামী একশ বছর পরেও পাঠক গ্রহণ করবেন; আবেদন কমবে না। আমি মনে করি, অনেক বই কালজয়ীও হবে। সব ধরণের বিষয় মিলিয়ে প্রায় ১১৬ বা ১১৭টি বই আমি প্রকাশ করেছি।’

বাংলা উপন্যাসের শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পর সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় লেখক হিসেবে বিবেচিত হ‌ুমায়ূন আহমেদ। তার মৃত্যুর পরও তার অপ্রকাশিত লেখা বের হচ্ছে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা থেকে। তার ছবি দিয়ে বানানো হচ্ছে টি-শার্ট, ক্যাপ ইত্যাদি। প্রায় প্রত্যেকটি বইমেলাতেই তার বই প্রচুর বিক্রি হয়ে থাকে।

মাযহারুল ইসলাম বলছেন, ‘সারা পৃথিবীতেই খ্যাতনামা মানুষদের ঘিরে সাধারণ মানুষদের আগ্রহ থাকে। তেমনি বাংলাদেশে হ‌ুমায়ূন আহমেদকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ আছে। আর তা দিন দিন বাড়ছে। খ্যাতিমান মানুষদের স্মরণে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তৈরি হয় নানা ধরনের পণ্য। এটা ভালোবাসার বিষয়।’

হ‌ুমায়ূন আহমেদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন সদস্য মনে করছেন, ‘এই ভালোবাসা হ‌ুমায়ূন আহমেদ ডিজার্ভ করেন। মানুষের এই ভালোবাসা তার পরিশ্রমের ফল। এ ভালোবাসা শুধু শুধু হলে ক্ষণিকেই মিলিয়ে যেত। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও অনুরাগ ২০-২৫ বা ৫০ বছরেও নিঃশেষ হবে না।’

অবসর প্রকাশনীর মালিক আলমগীর রহমান। হ‌ুমায়ূন আহমেদের পুরনো প্রকাশক তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমদের প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে তার বইই বেশি কেনে মানুষ। অবসর প্রকাশনী থেকে হ‌ুমায়ূনের অর্ধশতাধিক গ্রন্থ বেরিয়েছে।’

হ‌ুমায়ূন আহমেদ শুধু সাহিত্যেই নন নাটকেও সমান জনপ্রিয়। দর্শকনন্দিত নাটকগুলোর একটি বড় অংশ তার সৃষ্টি। তার ছায়াছবিও সমাদৃত হচ্ছে সমানভাবে। হ‌ুমায়ূন আহমেদের দর্শকেরা এখন চাইলেই ইউটিউবে তার সৃষ্টি উপভোগ করতে পারছেন। তার নাটক ও চলচ্চিত্র ইন্টারনেটে প্রচার করে ব্যবসা করছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে অন্যতম লেজার ভিশন। প্রতিষ্ঠানটি ৪টি ছবি ও প্রায় ৫০টির মতো নাটক ইউটিউবে আপলোড করেছে।

লেজার ভিশনের কর্ণধার একেএম আরিফুর রহমান বলেন, ‘হ‌ুমায়ূন স্যারের নাটক বা চলচ্চিত্র মানুষ দেখে। নতুন কোনও কাজ না আসায় পুরনোগুলোই দেখতে হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু চ্যানেল আই ও কিছু সরাসরি স্যারের কাছ থেকে কিনেছি।’ কার্টিসি: বাংলা ট্রিবিউন।

Share.

Leave A Reply