সরকারি স্কুলে দপ্তরির কাছে জিম্মি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: পরিশীলিত মানুষ হিসেবে সন্তানদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদের স্কুলে পাঠান অভিভাবকরা। কিন্তু সেই স্কুলেই যদি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি বা দপ্তরির হাতে লাঞ্ছিত হতে হয় তাদের! যেখানে খোদ শিক্ষকরাই দপ্তরি আতঙ্কে ভোগেন সেখানে শিক্ষার্থীদের তো কথাই নেই। এমন চিত্র লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর মান্দারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

মো. ইফরান হোসাইন সুমন নামের এক দপ্তরির নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। স্কুলে কাজের কথা বললেই সে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভয়ানক বাজে আচরণ শুরু করে। শিক্ষিকাদের লাঞ্ছিত করার হুমকি দেয়। স্কুলে শিক্ষকদের চেয়ারে বসে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকা যেন তার প্রধান কাজ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর তাকে স্কুলের কাজের কথা বলা হলে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতেই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ভাঙচুর শুরু করে দফতরি সুমন। সমান্তরালে চলতে থাকে অশ্লীল ভাষায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাজে ভাষায় গালমন্দ করা। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের টেবিলের কাচ ভেঙে, ভাঙা কাচের টুকরা নিয়ে শিক্ষকদের উপর হামলা চালাতে উদ্যত হয়। ফোনে স্কুলে ডেকে আনে বহিরাগত এক বখাটেকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, রীতিমতো দফতরি আতঙ্কে ভুগছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়, দপ্তরি সুমন স্কুলে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতা অডিও-ভিডিও করে বাইরে প্রচার করে কুৎসা রটায়। শিক্ষার্থীদের শাসিয়ে তাদের কাছ থেকে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতা সম্পর্কে জানতে চায়। শিক্ষার্থীদের দিয়ে স্কুল ঝাড়ু এমনকি স্কুলের টয়লেট পর্যন্ত পরিষ্কার করায়। শিক্ষকদের শুনিয়ে বলতে থাকে, এটা আমার স্কুল, আমার এলাকা, আমার ওয়ার্ড। এখানে চাকরি করতে হলে আমার কথা মেনে চলতে হবে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, দপ্তরী কাম প্রহরী সুমন যাবতীয় বিষয়ে তাদের রীতিমতো জেরা করে। রাতে এসে বিদ্যালয় পাহারা দিতে বলে। তার সামগ্রিক কার্যকলাপে শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে দ্য ঢাকা রিপোর্ট-এর সঙ্গে কথা হয় অভিযুক্ত দফতরি মো. ইফরান হোসাইন সুমনের। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। জেলা প্রশাসকের কাছে তার বিরুদ্ধে আটজন শিক্ষকের লিখিত অভিযোগকে তিনি পরিকল্পিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

Share.

Leave A Reply