৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫|৬ রবিউস-সানি, ১৪৪০|১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮|শুক্রবার, সন্ধ্যা ৬:০৫

নারী নির্যাতনের শেষ কবে?

সাদিয়া বিনতে শাহজাহান: দেশ এগিয়ে চলছে। রাস্তাঘাট, ইমারত, ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি হচ্ছে তরিৎ গতিতে। এখন বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। তবুও কী আশ্চর্য! দেশের অর্ধেকের ও বেশি জনগোষ্ঠী নারী সমাজের উপর নির্যাতন হার এখনো নিয়ন্ত্রনে আসেনি। গ্রামাঞ্চল এবং অশিক্ষিত সমাজে তো এর মাত্রা অত্যন্ত প্রকট। এই যে দেশে নারী নির্যাতনের হাজার হাজার মামলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত তার মধ্যে মাত্র শতকরা তিন ভাগের শাস্তির বিধান হয়েছে। বিশেষ করে তদন্ত, সাক্ষী এগুলোর যে ঘাটতি এবং পুলিশ বা প্রশাসনের যে গাফিলতি, এর কারণে অনেক অপরাধী অপরাধ করেও পার পেয়ে যায়।

সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীর অগ্রগতি বড় ভূমিকা রাখলেও ঘরের মধ্যে নারীর অবস্থা তেমন বদলায়নি। দেশের বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনো সময়ে, কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেছেন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক এবং ৫৩ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া অফিস আদালত কর্মক্ষেত্রে নারীদের নানা হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়ার পেছনে শিক্ষা প্রভাব ফেলে। জরিপ বলছে, অশিক্ষিত নারীদের ৫৬ শতাংশের বেশি নারী এ ধরনের নির্যাতনের শিকার। গত ১২ মাসের হিসাবেও তা ৩৯ শতাংশের বেশি ছিল। ডিগ্রি এবং এর থেকে বেশি পড়াশোনা করা নারীর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশের এ অভিজ্ঞতা ছিল। অন্যদিকে দরিদ্র এবং গ্রামীণ নারীদেরও এ নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বেশি ছিল।জরিপে বলা হয়, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বেশির ভাগ নারী (৭২ দশমিক ৭ শতাংশ) কখনোই নির্যাতনের কথা কাউকে জানাননি। বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ নারী পুলিশের সহায়তা চান। কেন নির্যাতনের কথা জানাননি, এ প্রশ্নের উত্তরে শতকরা ৩৯ জনের বেশি নারী বলেছেন, পারিবারিক সম্মানের কথা চিন্তা করে, নির্যাতনের ভয়ে, স্ত্রীকে স্বামীর মারার অধিকার আছে ভেবে অথবা লজ্জায় তাঁরা বিষয়গুলো কাউকে জানানোর প্রয়োজনই মনে করেননি।নারী ও মানবাধিকার নিয়ে কর্মরত লোকজনের মতে, স্বামীর নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণও যে নির্যাতন, তা নিয়ে নারীরা অভিযোগ করবেন না, তাই তো স্বাভাবিক। এটি যে নির্যাতন, তা–ই তো অনেক নারী বুঝতে পারেন না।শুধু যে নারীরা বুঝতে পারেন না, তা নয়, সামাজিকভাবেই শারীরিক নির্যাতনের বাইরে অন্য নির্যাতনকে তেমন একটা গণনায় আনা হয় না।

নারী নির্যাতনের এই মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলছে। নির্যাতিত নারীরা পাচ্ছেনা সুরক্ষা। এদের মধ্যে বেশিরভাগ নারীরাই পরিবার এবং সমাজের ভয়েও মুখ খুলেনা। অনেকেই ভাবে প্রতিকার হলেও যৌন হয়রানীর বিষয় প্রকাশ পেলে সমাজের চোখে ছোট হয়ে যাবে। এসব কারনে অপরাধীরা আরো বেশি সুযোগ পেয়ে যায়। কিংবা সরকারিভাবে এ বিষয়টিকে তদারকী করতে গেলেও নারীরা পরিপূর্ণ সঠিক বিচার পায়না। অপরাধীরা পার পেয়ে আবার অপরাধে লিপ্ত হয়।

সমাজের কাছে কেবল একটা প্রশ্ন-এভাবে আর কতো? নারীদের কি তবে আদৌ কোন স্বাধীনভাবে নিশ্চিতে বাঁচার জায়গা নেই?

সাদিয়া বিনতে শাহজাহান, লেখিকা ও সমাজকর্মী।

বিভাগ:কলাম
Share.

Leave A Reply