৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫|৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০|১৭ নভেম্বর, ২০১৮|শনিবার, বিকাল ৩:৩৮

মানবাধিকার কি তবে নিরুদ্দেশ?

বাকি বিল্লাহ শিবলী: মানবাধিকার বিষয়টি নিয়ে আমরা কম বেশি সবাই জানলেও তা গুরুত্ব সহকারে ভাবি খুব কম মানুষই। অথচ মানবাধিকার প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার।

মানবাধিকার এমন একটি প্রক্রিয়া যা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে সাহায্য করে। মানবাধিকার একটি সমাজে কতটা সক্রিয় তা সমাজের বসবাসরত মানুষগুলো নিজেদের জীবন কতটা নিশ্চিন্তে কাটাতে পারছেন তা দেখলেই বোঝা যায়। প্রত্যেকর নিজ নিজ আর্থসামাজিক অবস্থান, পরিচয় পাশাপাশি ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, লৈঙ্গিক পরিচয় কিংবা বয়স তাঁর আত্মপরিচয়কে ছাপিয়ে যাবে না এই আশ্বাস তাঁকে পেতে হবে।

প্রতিটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের জীবন সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে কোনো রকম হেনস্তা বা হয়রানির শিকার না হয়ে মোটামুটি শান্তিতে যাপন করতে পারে সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো বিশেষ পরিচয়ের কারণে বা তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের কারনে তাকে নিগৃহীত বা অপমানিত হতে হবে না। এবং কোনো অজুহাতে দখল করে নেওয়া হবে না তাঁর সহায়-সম্পদ, তাঁকে হতে হবে না বাস্তুহারা। নিজের সর্বস্ব হারিয়ে ভয়াবহ পরিস্তিতে পড়ে তাকে যেন নিতে না হয় দেশত্যাগের মতো চরম সিদ্ধান্ত।

রাস্তাঘাট, আকাশছোয়া উঁচু ইমারত কিংবা ঝলমলে দোকানপাট, অত্যন্ত উচ্চমূল্যের ব্যক্তিমালিকানাধীন বাহন অথবা আর্থসামাজিক সূচকে উন্নয়নের মাপকাঠিতে বেশ ওপরের দিকে স্থান পাওয়া—উন্নতির এসব মাপকাঠিতে মানবাধিকারের বিচার করা যায় না। মানবাধিকার বলে, প্রতিটি মানুষ মানুষ হয়ে পৃথিবীতে জন্মেছে বলেই কিছু অধিকার তার অবশ্য প্রাপ্য। এসব অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারে না, সে কোনো ব্যক্তিই হোক,রাষ্ট্র কিংবা সমাজ।আজ অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলতেই হয়, বাংলাদেশে নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে গেলেও মানবাধিকারের বিষয়ে যে অবহেলা, উদাসীনতা ও অনগ্রসরতার পরিলক্ষিত হচ্ছে তা সত্যিই অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও কষ্টদায়ক।

যে মানুষগুলো হারিয়ে গেলো, গুম হয়ে কোথাও চলে গেলো তাঁদের অধিকাংশেরই কোনো হদিস করতে পারছেনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের মধ্য হতে যারা ফিরে এলেন, তারা কি তাদের সাথে সংগঠিত এচ অমানবিক ঘটনার আদৌ শাস্তি চান? নাকি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে চুপ করে আছে তার হদিস ও কেউ রাখছেনা এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। নাকি এর অন্যতম কারণ এই যে, অভিযোগের আঙুলটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের দিকেই তোলা হয়, এ রহস্য রয়েই গেল।

আবার বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে বলে রাষ্ট্র দাবি করলেও আসলে প্রতিদিনই ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নামে মানুষ নিহত হচ্ছে এক-দুজন করে। এ বছরই এই ঘটনা ঘটেছে কম করে হলেও ১৫১টি। মানবাধিকারের দৃষ্টিতে এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। আজ এই সময়ে দাড়িয়ে মানবতার এহেন পরিস্থিতি আমাদের আসলেই ভাবায়, বাংলার মাটিতে মানবাধিকার কি আদৌ বেঁচে আছে?

বিভাগ:কলাম
Share.

Leave A Reply