৩০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫|৬ রবিউস-সানি, ১৪৪০|১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮|শুক্রবার, সন্ধ্যা ৭:৪৬

জি২০ সম্মেলনে কোণঠাসা সৌদি যুবরাজ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, দ্য ঢাকা রিপোর্ট ডটকম: ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সেই চিত্র আবারও সামনে এলো সদ্য সমাপ্ত জি-২০ সম্মেলনে। আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের অফিসিয়াল ‘ফ্যামিলি ফটো’সহ বেশ কিছু ছবিতে যুবরাজকে দেখা গেছে একেবারেই নিঃসঙ্গ ও কোণঠাসা অবস্থায়।

সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দেখা যায়, অন্য নেতারা নিজেদের মধ্যে করমর্দন বা আলাপ আলোচনায় ব্যস্ত থাকলেও দৃশ্যপট থেকে যেন অনেকটাই ছিটকে পড়েছেন সৌদি যুবরাজ। অন্যরা যখন আলোচনা করছেন, নিঃসঙ্গ যুবরাজ তখন একপাশে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন।

সম্মেলনে ট্রাম্প বা এরদোয়ানের মতো প্রভাবশালী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি সৌদি যুবরাজ। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ হয়েছে তার। বৈঠক শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভবিষ্যতে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি থামাতে যুবরাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।

থেরেসা মে সৌদি যুবরাজকে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে যুবরাজের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সৌদি আরবকে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার ব্যাপারে আস্থা অর্জন করতে হবে। দায়ীদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’ও এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুবরাজের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। খুনের নির্দেশদাতা হিসেবে আঙ্গুল ওঠে খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রথমে এ হত্যাকাণ্ডের খবর অস্বীকার করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সম্পৃক্ততার খবর অস্বীকার করা হয়। ওই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান।

খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর এবারের জি-২০ সম্মেলন দিয়েই প্রথমবারের মতো বিশ্বনেতাদের মুখোমুখি হলেন এমবিএস। তবে খাশোগি হত্যাকাণ্ড এবং ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক আগ্রাসনে দেশটি দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানোর বাস্তবতায় এবারের জি-২০ সম্মেলনে অপেক্ষাকৃত শীতল অভ্যর্থনা পান সৌদি যুবরাজ। সম্মেলনের প্রাক্কালে খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কানাডা। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, খাশোগি হত্যাকাণ্ড মূলত বাকস্বাধীনতার ওপরেই আঘাত। কানাডা এর সুষ্ঠু তদন্ত চায়।

খাশোগি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ডেনমার্ক সৌদি আরবে অস্ত্র রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরবে অস্ত্র রফতানির জন্য লাইসেন্স ইস্যু করা বন্ধ রেখেছে জার্মানি। ১৯ নভেম্বর ১৮ জন সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটি। কয়েক দিনের মধ্যে ওই সৌদি নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ফ্রান্স।

১৭ সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কানাডা জানায়, তাদের ধারণা তারা খাশোগি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। খুনের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

৫৯ বছর বয়সী খাশোগি একসময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। গ্রেফতার এড়াতে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাচনে চলে যান খাশোগি। দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন খাশোগি। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি আরব জানায়, ইস্তানবুলের কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে খুন হন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জোর দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের ‘শীর্ষ পর্যায়’ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ এসেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, মিডলইস্ট আই।

Share.

Leave A Reply