Bangladesh News Network
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

ইউপি নির্বাচন : সাধু সাবধান

দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | রণজিৎ মোদক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট নভেম্বর ৮, ২০২১, ১০:০৭ পিএম ইউপি নির্বাচন : সাধু সাবধান

রাজনৈতিক ব্যানার ইউপি নির্বাচনে অশনি সংকেত বহন করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঐতিহ্য অনেক পুরনো। উৎসবমুখর নির্বাচনের স্মৃতি অনেক বৃদ্ধদের স্মরণ রয়েছে। সাধারণ মানুষের সেবা করার মন-মানসিকতায় পূর্ণ ছিল ভোট প্রার্থীদের হৃদয়। স্বাধীন দেশের সাধারণ মানুষ সুন্দরতাকে দেখতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় দলীয় প্রতীকে নির্বাচন শুরুর পর থেকে মনোনয়ন কোন্দল যেমন বেড়েছে তেমনি তৃণমূলের সমাজকেও তা আরো বেশি বিভাজিত করে ফেলেছে। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বিশেষ করে পাওয়ারফুল দলের হয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়। হাম কি হনুরে... এ ভাবের দৃশ্য পথে-ঘাটে, মাঠে-ময়দানে ও অফিস-আদালতে প্রায়শই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। যা শুরু লজ্জাজনকই নয়, দুঃখজনকও বটে।

যার যার কাজের মাধ্যমে সবাই এগিয়ে যাবেন। উন্নয়ন হবে দেশ ও দশের এরচেয়ে আমরা সাধারন মানুষ কি আর আশা করব? নির্বাচনের মাঠে কত কথার ফুলঝুরি স্বর্ণ মোড়ায় দিব মাটির রাস্তা। কি সুন্দর প্রতিশ্রুতি প্রাণ জুড়ায়ে যায়। কিন্তু জংধরা তালা চাবি দিয়ে খোলা যাচ্ছে না। নিশিপদ্ম সিনেমা উত্তম কুমারের কন্ঠে শুনেছিলাম ‘মনটা যদি সিরাজ সাজে ভাগ্য মীরজাফর। বুঝলে নট বর?’ আসলে আমাদের ভাগ্যটা দুর্ভাগ্যের এক পুরনো পিলার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

বলছিলাম এই নির্বাচন নিয়ে আগামী ১১ নম্বর অনুষ্ঠেয় ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদে নির্বাচন। মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ৬৯১ জন। দলের তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যে কি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তা বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যাই তার সাক্ষ্য দিচ্ছে। এমনকি বেশ কিছু স্থানে কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা উন্মুক্ত  রাখতে হয়েছে। নিজেরাই নিজেদের নাক কেটে পরিস্থিতি পরিবেশ বিনষ্টের চেষ্টা করছে। সংসদ দলীয় নেতাদের কথায় কোন মূল্যায়ন করছে না। তাদের বিরুদ্ধে দল কি ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা বা ভবিষ্যতে নিবে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে নীতিহীন নেতার নির্দেশ মানা না মানার নামান্তরে রূপ নিচ্ছে।

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় যেখানে চেয়ারম্যান প্রার্থীর কোনো প্রতিদ্বন্ধি নেই। তা হচ্ছে বক্তাবলী ইউনিয়ন। দীর্ঘদিন যাবৎ এককথায় সুনামের সাথে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ফতল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শওকত আলী। অপরদিকে সবচেয়ে জনসংখ্যা বিশিষ্ট কুতুবপুর ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক ভোটার রয়েছে। শিল্প আবাসিক এলাকা পাগলা-কুতুবপুর। এখানে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি মনিরুল আলম সেন্টু। ঝড় বৃষ্টি বন্যা তাকে পায়নি। তিনি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভাই। মোটকথা দুই দলেরই তিনি। উন্নয়নের পক্ষে তার সব সময় অবস্থান। বিএনপির বহিস্কৃত নেতা সেন্টু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সরকারিভাবে ঘোষণার পরই তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবেন এলাকাবাসী।

নারায়ণগঞ্জবাসী সৌভাগ্যবান জেলার দুই মেরুতে দুইজন শিল্পপতি দানবীর রয়েছেন। একজন সম্ভ্রান্ত ওসমান পরিবারের সদস্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। অপরজন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ গত ৪ ফেব্রুয়ারি রূপগঞ্জের রূপসী গাজী ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মন্ত্রী একটি অকাট্য সত্য কথা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫ এমপি ও মেয়র এক হলে নারায়ণগঞ্জ আরো এগিয়ে যাবে। জ্ঞানী লোকের জ্ঞানী কথা। “দশে মিলে করি কাজ, হারি জিতি নাহি লাজ”। এটাই হচ্ছে উন্নয়নের মূলমন্ত্র। একই রাজনৈতিক দলের এমপি মেয়রদের মধ্যে মন্ত্রীমহোদয় মিলের অভাব অনুভব করেছেন। স্থানীয় পত্রপত্রিকা গুলোতেও ফুটে উঠছে। যা পাঠক ও স্থানীয় ভোটারদের মনকে বিষাদিত করছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের ভিতর যেসব ঘটনা ঘটে গেল তা স্বাধীনতার পক্ষের কারো কাম্য নয়। নিন্দুকরা হাজার নিন্দা বাতাসে ছড়িয়ে সরকারের বদনাম করছে। নিন্দুকের কাজ নিন্দা করা। সে যাই হোক, দেশের শত শত বিপদের মধ্যে উন্নয়ন থেমে নেই। অনাকাঙ্খিত ভাবে ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের রক্ষণাবেক্ষণ তাদের ভরণপোষণ। দীর্ঘ করোনাকালীন সময় দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা কম কথা নয়। যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী উন্নয়ন এক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। বন্যা, ঝড়-জলোচ্ছাস থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা সে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আজ চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই। তিনি বঙ্গবন্ধু আদর্শকে বুকে ধারণ করে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু কেউ যদি দলীয় ব্যানারে জনগণকে ভালোবাসা না দিয়ে ইউপি নির্বাচনে চেয়ার দখলের মহড়ায় মেতে উঠেন। তবে তার ফল শুভ হবে না এমন কী নিজেদের অমুভ কর্মকান্ডের সমস্ত বদনাম বর্তমান সরকারি দল আওয়ামী লীগের উপর বর্তাবে। তাই বলছি সাধু সাবধান ! ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যেন নিন্দুকদের অন্দোলনের হাতিয়ার না হয়।

Side banner