Bangladesh News Network
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

বধ হওয়ার বদলা

দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট জানুয়ারি ৭, ২০২২, ১১:০৪ পিএম বধ হওয়ার বদলা

বার বার টেনে আনা হচ্ছে শামীম ওসমান প্রসঙ্গ। আসলে শামীম ওসমান নাসিক নির্বাচনে ফ্যাক্ট। দেওভোগ বলয়ের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা কিছুতেই শামীম ওসমানের নাম ভুলতে পারছে না। আসলে ওদের মনে ভয় ঢুকে গেছে। যদিও খোদ ডা. আইভী তাচ্ছিল্য ভরেই বলছেন শামীম ওসমানকে খুব কি জরুরী! কেন্দ্রীয় নেতারা শামীম ওসমানের সাথে কয়েকবার কথা বলেও বরফ গলাতে পারেননি। এটা পারেননি বলেই ডা. আইভী বলছেন শামীমকে তেমন দরকার নেই। তিনি এমপি। চাইলেও সরাসরি মাঠে নেমে কাজ করতে পারবেন না। ঘুরেফিরে কেনো শামীম ওসমান প্রসঙ্গ উঠে আসছে নাসিক নির্বাচনে। নির্বাচনের আগে দেওভোগ বলয়ের লোকজনতো শামীম ওসমানকে অপাংতেয় ভাবতেন। তৈমূর আলমের পক্ষে গণজোয়ার যখন তুঙ্গে তখনি দেওভোগ বলয়ের নেতাদের ঘুম ভাঙ্গলো। এখন সবাই শামীম ওসমানের জন্য নাকি কান্না করছেন।

চাষাঢ়া বলয়ের সিনিয়র নেতারা বলছেন, ডা. আইভীর সমর্থকরা ভয় পেয়ে গেছেন। আওয়ামীলীগের এত লোকজন মাঠে নামার পরও তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কি করে এমনটা হচ্ছে। তৈমূর আলমতো কিছুই করেনি। সে কখনোই জনপ্রতিনিধি হতে পারেনি। অথচ ডা. আইভী তিনবারের বিজয়ী জনপ্রতিনিধি। অনেক উন্নয়ন করেছেন। এখনো বড় বড় কিছু প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। তাহলে মানুষ তৈমূর আলমের কাছে যাওয়ার কথা না। অথচ তৈমূর আলম খন্দকার মাঠে নামলে সর্বস্তরের জনতা তাঁর জন্য মাঠে নামে। তাঁর জন্য দোয়া করে, ভোট চায়। তিন তিনবারের বিজয়ী ডা. আইভীর কাছে তৈমূর আলম খন্দকারতো পাত্তা পাওয়ার কথা নয়। খড়কুটোর মত উড়ে যাওয়ার কথা। অথচ তৈমূর আলম খন্দকার কিনা ডা. আইভীর চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছেন। বিষয়টি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও গোচরীভূত হয়েছে।

‘এক্ষেত্রে ভুল ভাবতে শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।’ বলছিলেন চাষাঢ়ার নেতারা। তাদের কথায়, দেওভোগ বলয় ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতারা যারা ডা. আইভীর জন্য কাজ করছেন তারা ভাবছেন শুধুমাত্র শামীম ওসমান বিহনে ডা. আইভীর পক্ষে কাঙ্খিত গণজোয়ার এখনো তৈরী হয়নি। শামীম ওসমান স্বতঃস্ফূর্তভাবে আদরের ছোট বোনের জন্য কাজ করলে অবশ্যই নির্বাচনের মাঠের চিত্র বদলে যাবে। কিন্তু শামীম ওসমান বোনের জন্য নামেননি। শামীম ওসমানের রাগ কমেনি। ছোট বোন ডা. আইভীও তাঁর রাগ ভাঙ্গাতে যাননি। ফলে রাগের পর্ব দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দীর্ঘায়িত রাগ রূপ নিয়েছে ক্ষোভ-বিদ্বেষে। বিদ্বেষ এর কারণেই হয়তো শামীম ওসমান ডা. আইভীর জন্য কাজ করছেন না। পুরনো ক্ষোভ  সজাগ হয়ে উঠলে আসবে অন্য প্রসঙ্গ। এখনো চাষাঢ়ার নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করে ডা. আইভীর জন্যই ২০১১ সালে বধ হয়েছিলেন তৈমূর। এবং তৈমূর বধ হওয়ায় শোচনীয় পরাজয় ঘটেছিল শামীম ওসমানের।

মূলত: পরোক্ষভাবে বধ হয়েছিলেন শামীম ওসমান। কূট কৌশলটা ছিল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের। এবার যদি উল্টোভাবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। অর্থাৎ তৈমূরকে দিয়ে ডা. আইভীকে বধ করার কূটচালটা কেউ চাললে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। এটা হবে পর্দার অন্তরালের খেলা। মুখে অনেককেই দোষারোপ করা যাবে। কিন্তু কাউকে ধরা যাবে না।

এদিকে, পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) তিনটি নির্বাচনেই ঘুরেফিরে দুটি নাম আলোচনার পুরোভাগে চলে আসছে। তারা হচ্ছেন- নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি এ কে এম শামীম ওসমান এবং মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নাসিকের প্রথম নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী আইভীর কাছে পরাজিত হন শামীম ওসমান। দ্বিতীয় নির্বাচনে আইভী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও নির্বাচনের শুরুর দিকে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শামীম ওসমান আলোচনার শিরোনাম হয়েছিলেন। এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। কিন্তু অবস্থান নড়চড় হয়নি শামীম ওসমানের।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর সন্দেহ, নাসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকারের সঙ্গে শামীম ওসমান ঘরানার নেতাকর্মীদের কৌশলী যোগাযোগ রয়েছে। তারা এ ব্যাপারে খোঁজখবরও রাখছেন। তবে শামীম ওসমান এমন ধরনের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও অনেক নেতাকর্মীর দুশ্চিন্তা কাটছে না। এ অভিযোগ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও রয়েছে।

সূত্রমতে, শামীম ওসমান ও আইভীর মধ্যকার দূরত্ব দীর্ঘদিনের পুরোনো। এ দুই নেতার শীতল সম্পর্কের কারণে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতেও বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্পষ্ট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষ সরাসরি দ্বন্দ্ব-বিবাদে জড়িয়ে রয়েছে। এসব কারণে প্রায় সময়ই নেতিবাচক খবরের শিরোনাম তৈরি হচ্ছে। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শামীম ওসমান ও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর মধ্যকার মতবিরোধের বিষয়টি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসে। শামীম ওসমান ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেলেও জয় পান নাগরিক পরিষদের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচনের আগের দিন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সেই থেকে আওয়ামী লীগের দুই নেতা সুযোগ পেলেই পরস্পরের বিরুদ্ধে কথা বলে আলোচনায় এসেছেন।

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে আলোচিত দুই নেতার বাগ্‌যুদ্ধ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা তিক্ততায় জড়িয়ে পড়েন। ওই নির্বাচনে এ কে এম শামীম ওসমান দলীয় মনোনয়ন চাননি। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের দলীয় প্রার্থিতার পক্ষে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই অবস্থায় শামীম ওসমান ও আইভীকে ডেকে নিয়ে গৃহদাহ মিটিয়ে দেন। কিন্তু এবার তেমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

Side banner