Bangladesh News Network
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

দিপুর এসিড টেস্ট

দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট জানুয়ারি ৭, ২০২২, ১১:১৯ পিএম দিপুর এসিড টেস্ট

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে মাঠে থাকছেন প্রভাবশালী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপুর সমর্থিতরা। ইতোমধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ কয়েকটি পদে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। সেই সাথে তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। যদিও বরাবরই তাদেরকে বাধাগ্রস্থ করা হয়।

আগামী ১৮ জানুয়ারী জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু সমর্থিত আইজীবীরা ৬ টি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তারা হলেন-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন, সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক সোহেল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুন সিরাজুল মজিদ, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট রোমেল মোল্লা ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট ইফতেখার হাবিব সাগর।

এ বিষয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা কয়েকটি পদে প্যানেল গঠন করে মনোনয়ন জমা দিয়েছি। যত বাধাই আসুক আমরা নির্বাচনী মাঠে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবো।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই একটি ফ্যাক্ট হয়ে হয়ে থাকেন প্রভাবশালী আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু। সকল আইনজীবীদের নজর থাকে দিপুর উপড়। তিনি কোনো প্যানেল দেন কিনা। একবার তার নেতৃত্বে পূর্ণ প্যানেলে মনোনয়ন ফরম জমা নানা নাটকীয়তার মধ্যে শেষ পর্যন্ত সড়ে যেতে হয়েছিল।

জানা যায়, ২০২০ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোহসীন ও মাহাবুব প্যানেলের বিরুদ্ধে প্যানেল গঠন করেছিলেন আনিসুর রহমান দিপু। তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য। তাঁর নেতৃত্বে প্যানেল পূর্ণভাবে গঠনের পর প্রচারণাও চালায়। কিন্তু প্রত্যাহারের আগের রাতেই ঘটে যায় এক ঘটনা। প্রবল চাপে বাধ্য হয় ভোট থেকে সরে যেতে। দিপু প্যানেলের প্রত্যাহারের পর ছিল বিএনপি। কিন্তু ভোটের আগে তারাও সরে যায়। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ১৭ পদেই জয়ী হন এমপি শামীম ওসমান সমর্থিত অ্যাডভোকেট মোহসীন মিয়া ও মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে প্যানেল।

আর ওই সময়ে প্রত্যাহারকৃত আইনজীবীদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী এক আইনজীবী বলেছিলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ র্মার্চ কালো রাত্রির চেয়ে কোন অংশেই কম ছিলনা ১৮ জানুয়ারী দিবাগত রাত। যারা এ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে তারাই বলতে পারবে তাদেরকে কি পরিমাণ নির্যাতন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদেরও বাদ দেয়া হয়নি। এ কেমন রাজনীতি। রাতে গাড়িতে করে চাষাঢ়ার লোকজন গিয়ে হাজির। প্রথমে শান্তভাবে বুঝানো হয় মনোনয়ন থেকে সরে যেতে। কেউ রাজী না হলে তার উপর প্রচন্ড চাপ দেওয়া হয়।

ঠিক একইভাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক আইনজীবী বলেছিলেন, আমরা আদালতপাড়া রাজনীতি করি। এটাকে এখানেই সীমাবদ্ধ রাখা যেত। এজন্য পরিবারের লোকদের জড়ানোর কি দরকার ছিল। তাদেরকে হয়রানী করার কি দরকার ছিল। আমাদের আদালতপাড়ার সিনিয়র নেতারা বুঝিয়ে বললেই আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতাম। আমরা একই আদর্শের রাজনীতি করি। এভাবে হয়রানি করার কি দরকার ছিল। নির্বাচন করাতো অন্যায় কিছু না, এটা গণতান্ত্রিক অধিকার।

এরপর ২০২১ সালের নির্বাচনে দিপুর সমর্থিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনের মাঠে ছিলেন। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় তাকে বাধা না দিলেও নির্বাচনের দিন ঘটে যায় ভয়ঙ্কর ঘটনা। অস্ত্রের মুখে বহিরাগতরা এসে তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়া থেকে তুলে নিয়ে যায। নির্বাচন শেষে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। যা অনেক আইনজীবীই প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।

Side banner